ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে ঘানার সাথে ০-০ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে বলের নিয়ন্ত্রণে টমাস টুখেলের শিষ্যরা অনেক এগিয়ে থাকলেও ঘানার সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙার কোনো পথ তারা খুঁজে পায়নি। প্র
থমার্ধে খুবই বিবর্ণ ফুটবল খেলা ইংল্যান্ড বিরতির পর কিছুটা ভালো করতে পারল বটে, কিন্তু ঘানার জমাট রক্ষণ ভাঙতে না পারায় শেষ পর্যন্ত মূল্যবান এক পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ঘানাও তাদের প্রথম ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। এদিনের ম্যাচে ‘থ্রি লায়নস’রা দীর্ঘ সময় বল নিজেদের পায়ে রাখলেও গোল করার মতো পরিষ্কার সুযোগ খুব কমই তৈরি করতে পেরেছিল। পুরো ম্যাচ জুড়ে ঘানা অত্যন্ত আঁটসাঁট ও জমাটবদ্ধ ফুটবল খেলে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে বোকা বানিয়ে রাখে।
অবশ্য ম্যাচের শেষ দিকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ৮৭তম মিনিটে বুকায়ো সাকা উইং থেকে ভেতরের দিকে কেটে ঢুকে দূরপোস্ট লক্ষ্য করে একটি জোরালো শট নেন। তবে ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আসারে চমৎকার এক সেভে সে যাত্রা দলকে রক্ষা করেন।
এর ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরেই গোললাইনের আরও কাছে পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। রিস জেমসের বাড়িয়ে দেওয়া ক্রস বক্সের ভেতর উড়ে এলে সবচেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে হেড নেন ও’রাইলি, কিন্তু তার সেই হেডটি গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলটি বক্সের ভেতরে হ্যারি কেইনের পায়ে একদম নিখুঁতভাবে পড়েছিল, কিন্তু ইংলিশ অধিনায়ক অত্যন্ত কাছ থেকে নেওয়া শটটি গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডকে বড় ধাক্কা দিতে পারত ঘানাও। আব্দুল ফাতায়ু মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে স্ট্রাইকার আদুকে লক্ষ্য করে থ্রু পাস বাড়ান। এই ফরোয়ার্ড বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়লেও ফিনিশিং টানতে পারেননি। তার শটটি ডিফেন্ডাররা ব্লক করার পরপরই অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান।
এ ছাড়া, ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। ইংলিশ কিপার জর্ডান পিকফোর্ড ডি বক্সের বাইরে ছুটে এসে বক্সের ঠিক প্রান্তে ক্যালেব ইয়েরেঙ্কির সাথে ধাক্কা খান। ঘানার খেলোয়াড়রা ফাউলের জোর দাবি জানালেও রেফারি উল্টো ইংল্যান্ডের পক্ষে ফ্রি কিকের নির্দেশ দেন।
ম্যাচের ডেডলক বা অচলাবস্থা ভাঙতে টুখেল বেঞ্চ থেকে মার্কাস রাশফোর্ড, এবেরেচি ইজে এবং মরগান রজার্সকে মাঠে নামান। বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে এসে আক্রমণের গতি বাড়ালেও কাঙ্ক্ষিত সেই জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড।
নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত আরও ৬ মিনিট খেলা হলেও ম্যাচের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ড শিবিরের জন্য এক হতাশাজনক রাতের অবসান ঘটে। অন্যদিকে এই মূল্যবান ১ পয়েন্টের কল্যাণে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেল ব্ল্যাক স্টার্সরা।


