আকাশে যত তারা, সাংবাদিক নিয়ন্ত্রণে তত ধারা। এমন মন্তব্য করেছেন খোদ রাষ্ট্র নিয়োজিত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
সোমবার সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৫’-এ তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাংবাদিকদের শাস্তি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের হাতে অসংখ্য আইন রয়েছে। এমনকি যখন কোন অন্য কোন উপায় থাকেনা, তখন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার আইন ব্যবহার করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের এই শাসন করার মানসিকতা না বদলালে দীর্ঘদিনের এই প্রবনতা বন্ধ হবে না। শুধু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা বা সংশোধনে এই সমস্যার সমাধান হবে না।
তিতনি ব্যাখ্যা করে বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নিবর্তনমূলক আইন নতুন নয়। ১৮৬০ সালে পেনাল কোডের মাধ্যমে এটি শুরু হয়েছে, যা ১৯৭৪ সালের বিশেষ নিরাপত্তা আইন ও পরে আইসিটি আইনের সদ্য বাতিল করা ৫৭ ধারার মাধ্যমে অব্যাহত ছিল। এসব আইন রাষ্ট্রকে যখন-তখন সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি করার ক্ষমতা দিয়েছে।
সাংবাদিকদের শাস্তি দিতে বা হয়রানি করতে বিভিন্ন সরকার এসব কালাকানুন ব্যবহার করেছে বলেও মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
সাম্প্রতিক কালে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মোশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার উদাহরণ টেনে এর সমালোচনা করেন মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, কখনো কখনো আদালতের আদেশও ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক ১৭ বছরের কিশোরীর ঘটনা জানান। ফেসবুক পোস্টের কারণে গ্রেপ্তার হয়ে জামিন পাওয়ার আগে দীর্ঘ দুই বছর কারাগারে কাটিয়েছে সেই কিশোরী।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও ক্লুনি ফাউন্ডেশেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মানেকা খান্না উপস্থিত ছিলেন।


