বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) তাদের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) রিপোর্টে বহুল ব্যবহৃত একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরেছে।
বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে সোমবার বিএমইউর মিলন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিপোর্টটি উপস্থাপন করা হয়।
গত এক বছরে সংগৃহীত ৪৬ হাজার ২৭৯ রোগীর নমুনা বিশ্লেষণ করে এ রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যামক্সিসিলিন, সেফট্রিয়াক্সোন, জেন্টামাইসিন, মেরোপেনেম এবং টাইগাইসাইক্লিনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে।
অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বাড়তে থাকার কারণেই চিকিৎসার মেয়াদ বাড়ছে, ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সালমোনেলা টাইফি আইসোলেটে সিপ্রোফ্লক্সাসিনের প্রতি প্রতিরোধ সর্বোচ্চ, এবং ই. কোলাইয়ের প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছে। হাসপাতাল-সংক্রমিত অ্যাসিনেটোব্যাক্টার প্রজাতির ক্ষেত্রে প্রায় সব প্রধান অ্যান্টিবায়োটিকেই প্রতিরোধ দেখা গেছে, যা আরও উদ্বেগের কারণ।
এছাড়া, ক্লেবসিয়েলা, সুডোমোনাস এবং কার্বাপেনেমেস উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন জীবাণুতে প্রতিরোধ বাড়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ছত্রাক প্রজাতিতে ফ্লুকোনাজোল প্রতিরোধও বাড়ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শহীনুল আলম অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সয়েদুর রহমান বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিশ্ব শিগগিরই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।
এ সময় মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু নাসের ইবনে সাত্তার জনসাধারণের মধ্যে দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


