অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বিএনপি

অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বিএনপি
Advertisement
Advertisement

আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশের অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শতাধিক নেতা। তাদের নিয়ে চাপে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। বিদ্রোহীদের কারণে বেশ কিছু আসন হাতছাড়া হওয়ারও আশঙ্কা করছে দলটি। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় সূত্র থেকে এ কথা জানা গেছে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেকায়দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কারণ এসব আসনে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় মিত্র দলের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিদ্রোহী নেতারা স্থানীয়ভাবে বেশি জনপ্রিয়। এই অবস্থায় জোটসঙ্গীদের পাস করিয়ে আনা কঠিন বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি এরই মধ্যে নয়জনকে বহিস্কার করেছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, এখনো যারা নির্বাচনের মাঠে আছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এসময় এই বিদ্রোহী নেতাদেরকে ভবিষ্যতে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করবে  দলের হাইকমান্ড। তবে এরপরও কেউ সরে না দাঁড়ালে তার বিরুদ্ধে আজীবন বহিস্কারের মত  কঠোর দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির বিদ্রোহী নেতাদের বেশ কয়েকজন জানান, প্রার্থী মনোনয়নের সময় দলের হাইকমান্ড মাঠপর্যায়ের সঠিক জরিপ করেনি। একারণে অনেক এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওযা হয়েছে। অথচ মাঠ পর্যায়ের তথ্য ও জরিপ সঠিক হলে একাধিক জনপ্রিয় নেতার মধ্য থেকেই একজন মনোনয়ন পেতেন। সেক্ষেত্রে এত বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী হতেন না।

আরও পড়ুন

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের শীর্ষ নেতারা শিগগরিই প্রত্যেক বিদ্রোহী নেতার সঙ্গে আলাদা কথা বলবেন। তাদেরকে জেলা পরিষদ-উপজেলা পরিষদের মত স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য পর্যায়ে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হবে। আগামী ২০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। এরপরও দলের পদধারী বা সদস্য কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। প্রতিটি আসনেই এই দল থেকে একাধিক যোগ্য মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দল যাকে মনোনয়ন দেবে, সবাইকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। এজন্য মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অন্যদেরকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ‘টাইমস’কে বলেন, রাজনীতি করতে হলে আগে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। দলের মনোনীত প্রার্থীর আসনে কে কে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এখনো পুরো তালিকা আসেনি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রত্যাহারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রত্যাহারের দিনের পর যদি কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চান তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন পর্যন্ত জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নয়জনকে বহিস্কার করেছে বিএনপি। তারা হলেন দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন ও আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad