অর্থসংকটের কারণে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনীয় কাজ বাস্তবায়ন করতে পারছে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ পরিস্থিতিতে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেছে সংস্থাটি।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান। আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
ডিএসসিসির আবেদনে বলা হয়েছে, নিউমার্কেট, বিজিবি এলাকা, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও বকশিবাজার এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ আউটলেট ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ লাইন না থাকায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে নিজস্ব তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা সিটি করপোরেশনের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় তিনটি প্রকল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিউমার্কেট ও বিজিবি এলাকা হয়ে নবাবগঞ্জ স্লুইস গেট পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মাস্টার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণে ১২০ কোটি টাকা; ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, বুয়েট, বকশিবাজার ও চকবাজার হয়ে সোয়ারিঘাট পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার মাস্টার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণের জন্য ৬০ কোটি টাকা এবং দক্ষিণ সিটির ১০টি অঞ্চলের প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রধান সড়ক সংস্কারের জন্য আরও ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করেছে সংস্থাটি।
ডিএসসিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) শাহরিয়া জামিল গত ২২ মে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য (সচিব)-এর কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আবদুস সালাম গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত কয়েক মাসে প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় হয়নি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সিটি করপোরেশন অর্থসংকটে পড়েছে।
বিগত প্রশাসনের সময় ঢালাওভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সিটি করপোরেশন কার্যত ধসে পড়বে।’


