নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ ও সহযোগিতার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিবেশী দেশ এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং যৌথ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নেয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ, আস্থা বৃদ্ধি এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতামূলক সমাধান এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সক্রিয় অংশগ্রহণে বিশ্বাস করে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেল সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (সাফা) আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘পরবর্তী প্রজন্মের পেশা: নৈতিক এআই এবং টেকসই রিপোর্টিংয়ের রূপান্তর’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ১৫ বছর ধরে আমাদের দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে অর্থপাচার করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যাংক ডাকাতি করা হয়েছিল। তবে একটি উল্লেখযোগ্য অংশও ছিল অ্যাকাউন্টিংয়ের ম্যানিপুলেশনের ফলাফল। দেশের অনেক শীর্ষ হিসাবরক্ষক আমার সামনে রয়েছেন। আমি আপনাদের সহযোগিতার অনুরোধ করব, যাতে ভবিষ্যতে এমনটি না ঘটে এবং আমরা একটি ভিন্ন পথে ফিরে আসতে পারি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্বশীল প্রতিবেশী এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং সম্মিলিত পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা, আস্থা বৃদ্ধি ও অভিন্ন উদ্বেগের সহযোগিতামূলক সমাধানের প্রচারের জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণকে সমর্থন করি। এই সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়া এবং এর বাইরেও বিশেষজ্ঞ, অনুশীলনকারী এবং চিন্তাবিদদের একত্রিত করেছে দেখে আমি উৎসাহিত বোধ করছি। আপনার আলোচনা এবং অন্তর্দৃষ্টি নিঃসন্দেহে পরবর্তী প্রজন্মের পেশাদারদের জন্য সততা, দায়বদ্ধতা এবং উদ্ভাবনের ওপর সমান জোর দেওয়ার পথ দেখাবে।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যুগে বাস করছি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন আমার পেশাসহ বিশ্বজুড়ে নানা পেশাকে রূপান্তরিত করছে। একই সঙ্গে, বিশ্ব সম্প্রদায় ব্যবসা ও প্রশাসনে স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা এবং নৈতিক অনুশীলনের ওপর ক্রমবর্ধমান জোর দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি ও টেকসই ক্ষমতার প্রস্তাবিত সমন্বয় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং গভীর বৈশ্বিক সংহতির জন্য আমাদের পেশাদারদের কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ নয়, নৈতিক ও সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ থাকা প্রয়োজন।’
এই সম্মেলনের মতো মঞ্চ জ্ঞানের আদান-প্রদান, সেরা পন্থা-পদ্ধতিগুলো ভাগ করে নেওয়া এবং অর্থবহ সহযোগিতার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের কর্মসূচি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক উভয় সম্প্রদায়কে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ভবিষ্যতের দিকে চালিত করতে সহায়তা করতে পারে, যোগ করেন তিনি।


