প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সোমবার তার দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ হতে সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিগগির ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
বৈঠকে তিনি সৌদি দূতাবাসে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রস্তাব পেশ করেন। এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তি নিশ্চিত করতে ৭৩টি পেশায় চলমান ‘দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম’ এর পরিধি বাড়ানো এবং বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে (টিটিসি) সৌদি মানদণ্ডে আধুনিকায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ বা ‘কোয়ালিফাইড ট্যালেন্ট ব্যাংক’ তৈরির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ থেকে মাত্র কয়েক দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
জনশক্তি নিয়োগে যেকোনো অনিয়ম বা কর্মী হয়রানির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি সৌদি আরবে পেশাদার ও হোয়াইট কলার কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আকামাহ ফি কমানোর বিষয়ে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি প্রবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষা এবং কোনো কর্মীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে মরদেহ দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চান।
সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সম্পাদিত চুক্তিতে অনেক বিষয় ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নতুন চুক্তিতে যোগ করা যেতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করেন, আকামাহ ফি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বহন করার নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা কাম্য নয়।
তিনি নিয়ম লঙ্ঘনকারী ৯৯০টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার অনুরোধ জানান এবং কর্মীদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপের সংখ্যা ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তিনি সিলেট বিমানবন্দরে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর বিষয়ে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকের শেষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী রাষ্ট্রদূতকে সিলেট ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান এবং সৌদি আরব থেকে সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন।
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী ও সৌদি দূতাবাসের কনসুল্যার আব্দুল্লাহ আল-হারবিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


