অভিজ্ঞতার অভাবে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিন দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ভোলায় গিয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন স্পিকার।
অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে স্পিকার বলেন, ‘অদক্ষ লোকের হাতে ক্ষমতা থাকায় অর্থনীতির সূচক নিচে নেমে গিয়েছিল। এমনকি হামের টিকা সময়মতো না আনার কারণে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তারা নিরপেক্ষ সরকার হিসেবে চেষ্টা করলেও অভিজ্ঞতার অভাবে সফল হতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কিছু উদ্ভট নিয়ম করে গিয়েছিল, যার মাধ্যমে ব্যক্তির নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
তবে সমালোচনার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছে।’ এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ সময় স্পিকার আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের হাতে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বিরোধী দল মিলে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করবে। স্পিকারের মতে, জুলাই সনদ নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে মৌলিক কোনো মতভেদ নেই, তবে কিছু রাজনৈতিক কূটচাল বিদ্যমান। দেশের মানুষের ম্যান্ডেট অনুযায়ী মাফিয়াতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে উভয় দল একমত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
জুলাই সনদে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের বিষয়ে স্পিকার বলেন, বিএনপি বৃহত্তম দল হিসেবে এই সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং সংসদেও তা বাস্তবায়নের কথা বলেছে। তবে যেসব বিষয়ে তারা ভিন্নমত দিয়েছে, জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ায় তারা চাইলে তা কার্যকর করার আইনি অধিকার রাখে।
এর আগে দুপুরে স্পিকার ভোলা সার্কিট হাউসে পৌঁছালে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক শামীম রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনের এই সফরে তিনি নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।


