মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন ১০ সেনা কর্মকর্তা।
এই আবেদনের ওপর আগামী ১৪ ডিসেম্বর শুনানির দিন ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই শুনানি হয়।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকা সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয় ১০ সেনা কর্মকর্তাকে।
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন কর্নেল এ কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুনের মামলায় গত ২২ অক্টোবর অন্য মামলার তিন সেনা কর্মকর্তার সগে এই ১০ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে ঢাকা ক্যান্টমেন্টে সরকার ঘোষিত বিশেষ কারাগারে তাদের রাখা হয়।
গুমের ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়। শুনানি শেষে সেদিন ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
টিএফআইয়ে গুমের একটি অভিযোগের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও তারেক সিদ্দিকীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। অন্যটিতে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় আসামি শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।
এই ৩০ জনের মধ্যে হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকী দুটি মামলায়ই আসামি। ফলে আসামি সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮। এদের মধ্যে ১৩ জন গ্রেপ্তার আছেন, বাকিরা পলাতক।


