অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান কঠোর জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ‘ন্যায্যতা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে জুয়ায় জড়িত সকল অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে।’
সোমবার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সভাকক্ষে ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় এসব কথা বলেণ তিনি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘অনলাইন জুয়া বন্ধে বিটিআরসি ইতোমধ্যে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নোটিশ পাঠিয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অনলাইন জুয়ায় জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এরই মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। একটি কমন ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে সরকারি সংস্থা, প্ল্যাটফর্ম ও অপারেটররা তথ্য শেয়ার ও নজরদারি করতে পারবে।’
যারা অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত, তাদের ফোন নম্বরের ইন্টারনেট গতি সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দেশকে অনলাইন জুয়া থেকে মুক্ত করতে হলে জুয়ার চক্রের সুডো সদস্যদের চিহ্নিত করা, ট্রাফিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে লিংক স্লো করা এবং লেনদেনকারী নম্বর বা এমএফএস অ্যাকাউন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, ‘সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, যুব সমাজকে বিপথগামীতা থেকে রক্ষা করা এবং অর্থপাচার বন্ধে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ চলবে।’
মিডিয়া হাউজগুলোর ওয়েব ব্রাউজার ও অ্যাডসেন্স সেটআপের জন্য একটি নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ভেটিং প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অনুমোদন শেষে এটি সংশ্লিষ্ট সব মিডিয়াকে সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত গাইডলাইনও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা অনুমোদনের পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
সভায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের পর সিম সংখ্যা ১০টিতে সীমিত করলে এটি জুয়া প্রতিরোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে জুয়ায় জড়িতদের শনাক্ত করাও জরুরি।’
আলোচনায় বিকাশের এক প্রতিনিধি জানান, জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত দুই সপ্তাহে ৩৯৭টি মোবাইল নম্বর বন্ধ করা হয়েছে এবং ক্রলিং ইঞ্জিনের মাধ্যমে অনলাইন ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া উন্নত করা হচ্ছে।
অনলাইন স্ক্যাম ও জুয়া প্রতিরোধে মাদক অধিদপ্তরের মতো একটি বিশেষ সংস্থা গঠন এবং ক্রস-ডোমেইন মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার কথাও উঠে আসে আলোচনায়।
সভায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে সার্ভিস, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও এমএফএস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


