প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কণ্ঠস্বর জোরালো করতে গণমাধ্যম এবং নাগরিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বিত ও কাঠামোগত সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন, একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সম্পর্ক স্থাপন এখন সময়ের দাবি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে উন্নয়ন সংস্থা ‘সমষ্টি’র উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় এবং ক্রিশ্চিয়ান এইডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘ইসিএসএপি’ প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে হলে নিবিড় গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি মনে করেন, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গৃহীত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নকে নিছক দয়া হিসেবে না দেখে টেকসই উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রান্তিক কণ্ঠস্বর জোরালো করা: নাগরিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, বর্তমানে গণমাধ্যমগুলোতে প্রান্তিক মানুষের সমস্যাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে গুরুত্ব পায়, যা তাদের কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে পর্যাপ্ত নয়।
এ ছাড়া নাগরিক সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের বর্তমান সম্পর্কটি মূলত প্রকল্পভিত্তিক ও অনানুষ্ঠানিক হওয়ার কারণে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারছে না। তথ্য সংগ্রহে সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদের ঝুঁকিও এক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লায়লা জেসমিন বানু আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
অন্যদিকে, ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি সুজান ভাইস বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান যুগে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সেমিনারে উপস্থিত বিশেজ্ঞরা গবেষণার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


