বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনা এবং রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও ‘মেরামতের অযোগ্য’ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
রোববার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাটো সংস্কার বা নামমাত্র মেরামতের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। অতীতের পুঞ্জীভূত ব্যর্থতায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ মেরামতের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই একটি সুস্থ ও সবল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যদি সঠিক সময়ে টিকাদান এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেত, তবে আজ শিশুদের কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস বা ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হতো না। মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ যখন মহামারি আকার ধারণ করে, তখন সেখানে চিকিৎসকদের করার খুব কমই থাকে। এটি মূলত প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতারই ফল।
বিগত প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভুল নীতি বা ‘রং পলিসি’ শত শত শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। পূর্ববর্তী আমলে মাঠ পর্যায়ে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কাজ না হওয়ায় হাসপাতালগুলোর সেবা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তবে বর্তমান গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে এই অচলায়তন ভেঙে নতুন কিছু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বিশেষ করে ‘প্রিভেনশন’ বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে অসংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমিয়ে আনাই বর্তমান লক্ষ্য।
তিনি দাবি করেন, অতীতে কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে এতটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা ‘হোমওয়ার্ক’ করেনি, যতটা বর্তমান সরকার বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছে।
সেমিনারে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জিয়া হায়দার, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বেন নূর এবং স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


