২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলেছে, এ মাসে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, গণপিটুনিসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে কমপক্ষে ৬৪টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫১৩ জন। ওই মাসে অন্তত ৩৪টি ঘটনায় কমপক্ষে ৪৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকারও হন। এসময় সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে সাতজন আসামি মারা গিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন কয়েদি ও চারজন হাজতি ছিলেন।
এইচআরএসএস জানায়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনের শাসনের দুর্বলতা এ মাসের ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। অক্টোবর মাসে সাংবাদিকদের উপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা, শ্রমিকদের ওপর হামলা, নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতন বেড়েছে। বিশেষত, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দলীয় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সংঘর্ষের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মব সহিংসতা, গণপিটুনিতে নির্যাতন ও হত্যা, বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, সভা-সমাবেশে বাধা প্রদানের মতো ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যাসহ বেশকিছু সামাজিক অপরাধের ঘটনা জনমনে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় গণপিটুনির ঘটনা কিছুটা কমলেও হতাহতের ঘটনা থেমে নেই। এ সময় গণপিটুনির ১৭টি ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হন ১৯ জন। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কমপক্ষে দুইটি হামলার ঘটনায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
অক্টোবর মাসে কমপক্ষে ২২১ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৩৭ জন ছিল ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী।
একই সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চারটি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে চারজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গত ১৫ অক্টোবর ভারতের ত্রিপুরায় স্থানীয় বাসিন্দারা তিন বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সিলেটের জৈন্তাপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গুলিতে আলমাস উদ্দিন (২৩) নামে এক যুবক নিহত হন।
এছাড়াও অক্টোবর মাসে ৩৫টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং ১১৬ জন আহত হন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৩৬ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন।
অপরদিকে, অক্টোবরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় কমপক্ষে ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ হাজার ৭২১ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। রাজনৈতিক মামলায় কমপক্ষে ৫৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের ৫৪৪ জন এবং বিএনপির ২৫ জন নেতাকর্মী। এছাড়া সারাদেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে আরও ৩ হাজার ৭০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।


