আট মাসের নিম্নমুখী প্রবণতা কাটিয়ে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য মতে, বছরওয়ারি হিসাবে রপ্তানি আয় ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
মাসওয়ারি হিসাবেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। আগের মাসের ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে রপ্তানি ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে বৈশ্বিক চাহিদা পুনরুদ্ধার এবং বাণিজ্য কার্যক্রমে গতি ফেরার ইঙ্গিত মিলছে।
তবে চলতি অর্থবছরের জুলাই–এপ্রিল সময়ে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪০ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২ দশমিক ০২ শতাংশ কম। যদিও সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বছরের শেষ দিকে এই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
রপ্তানি আয়ে আগের মতোই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে মোট রপ্তানি হয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার, যার বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার।
যদিও আগের সময়ের মোট ৩২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য কমেছে, তবে সাম্প্রতিক মাসিক প্রবৃদ্ধি খাতটির স্থিতিস্থাপকতা ও পুনরুদ্ধারের শক্ত ভিত্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রপ্তানি বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ০১ শতাংশ এবং ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা বিস্তৃতি এবং বাজার বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দেয়।
সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক রপ্তানি পরিসংখ্যান বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতের জন্য নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা ও বাজার সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চলতি অর্থবছরের শেষভাগে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও জোরালো হতে পারে।


