হরমুজ প্রণালি খুলতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশ পালন না হলে ইরানের ওপর ‘ভয়াবহ’ হামলা চালানো হবে।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সময় ফুরিয়ে আসছে–আর ৪৮ ঘণ্টা পরই ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে আসবে।’ তিনি এর আগে ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
এই আল্টিমেটাম এমন এক সময়ে এল, যখন গত কয়েক দিনে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ভূপাতিত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে নিখোঁজ এক পাইলটকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে।
একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া আরও দুটি হেলিকপ্টার ইরানি হামলায় ভূপাতিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে ওই হেলিকপ্টারের ক্রু সদস্যদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ধারাবাহিক এই ক্ষয়ক্ষতি ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। সম্প্রতি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়েছে–এমন দাবি করে মধ্যপ্রাচ্যে বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে গত ২৪ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল ওই বোমারু বিমানগুলোর মোতায়েন স্থগিত করার বিষয়টি পেন্টাগন বিবেচনা করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান যুদ্ধে সাতটি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ভূপাতিত
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট সাতটি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে। সর্বশেষ শুক্রবার আলাদা দুই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।
আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার ইরানের হামলায় একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। একই দিনে আরেকটি এ-১০ যুদ্ধবিমান আলাদা ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়।
এর আগে, গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। তবে ওই তিন বিমানের ছয় ক্রু সদস্যই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
গত ১২ মার্চ ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হন। একই ধরনের আরেকটি উড়োজাহাজ পাশের একটি দেশে নিরাপদে অবতরণ করে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া, গত ২৭ মার্চ সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় রানওয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়। ওই হামলায় একটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
মধ্য ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
এই ঘটনার পর হোম ফ্রন্ট কমান্ডের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলগুলো আক্রান্ত স্থানে মোতায়েন রয়েছে।
জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার সুবিধার্থে আক্রান্ত এলাকায় বা এর আশেপাশে জড়ো না হওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
শত্রুপক্ষের ১৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি এ পর্যন্ত ১৬০টির বেশি শত্রুপক্ষের ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট যৌথভাবে এ সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা এলহামি।
শনিবার সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থান পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘ইরানি ইউনিটগুলো শত্রুপক্ষের বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টিরও বেশি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। ভূপাতিত ড্রোনগুলোর মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেলের ড্রোনও রয়েছে।’
এলহামি বলেন, এই সাফল্য আক্রমণকারীদের ‘কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা’ ভেঙে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের জন্য ওত পেতে আছে এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির ইউনিটগুলোর মাধ্যমে চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের একাধিক শত্রু যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। এটি তাদের কৌশলগত দক্ষতা, আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৈপুণ্যের ফল বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানি সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই কমান্ডার বলেন, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। হামলায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার দায় প্রত্যাখ্যান ইরানের
সৌদি আরবের রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শুক্রবার রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ওই ড্রোন হামলার পেছনে ইসরায়েলকে দায়ী করেছে তেহরান। তাদের দাবি, ইরানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই ইসরায়েলি সেনারা মার্কিন দূতাবাসে হামলা করেছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব মার্কিন দূতাবাসে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে, প্রকৃতপক্ষে ক্ষতি আরও অনেক বেশি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দূতাবাসে সীমিত আগুন ও সামান্য ক্ষতির কথা বললেও সেই আগুন কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে এবং দূতাবাসের ভেতরে ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
তবে আইআরজিসি ওই প্রতিবেদনের নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছে, এই হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘কোনো সম্পর্কই নেই’ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যুদ্ধ কৌশল বিবেচনায় এটি ‘নিশ্চিতভাবেই জায়নবাদীদের কাজ’।
বিবৃতিতে ‘জায়নবাদী শাসনের ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানায় আইআরজিসি।
এতে আরও বলা হয়, ‘এই মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হলো যুক্তরাষ্ট্র-জায়নবাদী শক্তির অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ও অঞ্চল ধ্বংসের ষড়যন্ত্রমূলক উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা।’
প্রতিপক্ষের ১৬০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রতিপক্ষের দেড় শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।
দেশটির জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সদর দপ্তরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেছেন, ইরানের সেনারা আধুনিক দেশীয় প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেই ‘শত্রুর যুদ্ধবিমান ও ড্রোন’ ভূপাতিত করতে এবং পালটা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও উন্নত মানববিহীন উড়োজাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যুদ্ধে বিদেশি প্রযুক্তির চেয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের তৈরি সরঞ্জামের ওপরই তুলনামূলক বেশি ভরসা করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আলিরেজা এলহামি জানান, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী এরইমধ্যে একাধিক আধুনিক যুদ্ধবিমান, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৬০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
তিনি বলেন, ধ্বংস করা ড্রোনগুলোর মধ্যে হারমেস ও লুকাস ধরনের মানববিহীন উড়োযানও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নতুন কৌশল, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উদ্ভাবন এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলেই অভাবনীয় এই সাফল্য এসেছে, যা শত্রুপক্ষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।’
সূত্র: আল জাজিরা
ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুবাইয়ের ওরাকল সদর দপ্তর

ইরানের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের দুবাই সদর দপ্তর। শনিবার আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ওরাকলের ভবনে বড় গর্ত দেখা যায়।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরানের কোনো ড্রোন সরাসরি ভবনটিতে আঘাত হানেনি, বরং ভূপাতিত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ওই ক্ষতি হয়।
দুবাইয়ের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতায় ওরাকলের সদর দপ্তরে বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি। এমনকি ওরাকলের ডাটা সেন্টারও অক্ষত আছে।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে থেকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সংগৃহীত ভিডিওচিত্রে ভবনটি সরাসরি হামলার শিকার বলেই মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে দুবাইয়ের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছিল। অ্যামাজন, গুগলের মতো জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রকাশ করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে মার্কিন স্থাপনা সম্পর্কেও সতর্ক করেছিল তেহরান।
ওরাকলে হামলাকে তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এপি
ভূপাতিত মার্কিন বিমানের নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে ইরানের পুরস্কার ঘোষণা

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত করা দুটি মার্কিন বিমান থেকে দুই পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ আছেন তৃতীয়জন। ওই পাইলটকে আটকের চেষ্টায় অভিযান চালাচ্ছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী।
স্থানীয় সময় শুক্রবার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিমানে থাকা এক পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানটি দুই আসন বিশিষ্ট হওয়ায় তাতে আরও একজন পাইলট ছিলেন বলে ধারণা করছে তেহরান।
ওই হামলার পরপরই ইরানের আকাশসীমায় উড়তে থাকা একটি মার্কিন এ-১০ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে হামলা চালায় তেহরান। ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বিমানটি কুয়েতের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বিমানে থাকা একমাত্র পাইলট ইজেকশন করে নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন এবং তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যেখানে এ-১৫ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেই এলাকার আশপাশে তল্লাশি চালাচ্ছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ডস করপস। স্থানীয় গভর্নর এক ঘোষণায় বলেছেন, ‘শত্রু বাহিনীর সদস্যদের’ কেউ আটক বা হত্যা করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।
অন্যদিকে নিখোঁজ পাইলটের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করে। তবে এতে অংশ নেওয়া দুটি মার্কিন ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার মুখে পড়ে। তবে সেগুলো নিরাপদে ইরানের আকাশসীমা ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা।
অবশ্য নিখোঁজ পাইলটের শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। ধারণা করা হচ্ছে তার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এসব তথ্য গোপন করা হচ্ছে। এমনকি বিধ্বস্ত বিমানের উদ্ধারকৃত পাইলটদের দেহে আঘাতের মাত্রা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার মুখে থাকা ইরানের নাগরিকদের মধ্যে কেউ কেউ মার্কিন বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে খুশির বার্তা দিয়েছেন। এই ঘটনাকে উদযাপন করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক বার্তায় বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন “ইরানে শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য” থেকে নেমে এসে তাদের নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধার অভিযানে পরিণত হয়েছে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে যুদ্ধ শেষ করার কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা এরইমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে দিয়েছে, তারা আগামী দিনগুলোতে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসতে প্রস্তুত নয়। পাকিস্তানের নেতৃত্বে তাই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
২৪ ঘণ্টায় ইরানে দুইশর বেশি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানজুড়ে দুইশতাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান’-এর তথ্যমতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিলিয়ে ইরানে অন্তত ২০৬টি হামলা চালানো হয়েছে।
সংগঠনটির সংবাদমাধ্যম এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার এই সময়ে ইরানের ১৩টি প্রদেশ হামলার শিকার হয়। এসব হামলায় অন্তত একজন বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি করেছে তারা।
এইচআরএএনএ-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৬০৭ জন বেসামরিক নাগরিক, এক হাজার ২১৩ জন সামরিক সদস্য এবং ৭১১ জন এমন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয়।
তাদের দাবি, চলমান যুদ্ধে প্রকৃত হতাহতের তুলনায় অনেক কম তথ্য প্রকাশ করেছে ইরান কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে সম্প্রতি ইরানের রাজধানী তেহরান ও কারাজের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতুতে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন।
তবে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির কাছে ভূপাতিত হওয়া দুটি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে জড়িত কোনো সেনাসদস্য এই হতাহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। অবশ্য পেন্টাগন জানিয়েছে ওই দুটি বিমানে থাকা পাইলটদের জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ২৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর সদস্য, ৬৩ জন নৌবাহিনীর নাবিক, ১৯ জন মেরিন সদস্য এবং ৩৬ জন বিমানবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা


