নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সমস্যার যেন অন্ত নেই। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির মধ্যে আরও এক বড় সংকটের সম্মুখীন হন হাতিয়াবাসী। প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে বন্ধ রয়েছে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম।
উপজেলায় ৫০ শয্যার একটি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। যেখানে ময়নাতদন্তের জন্য নির্ধারিত কক্ষও কাছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল বিশেষ করে ডোম না থাকায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এই কার্যক্রম।
সাড়ে সাত লাখ মানুষের বসবাস হাতিয়ায়। সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে পড়ে মৃত্যু, নৌকাডুবি বা অপমৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজন হয় ময়নাতদন্ত। কিন্তু হাতিয়ায় সেই ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি মরদেহ নিয়ে যেতে হয় নোয়াখালী সদরে মাইজদী জেনারেল হাসপাতালে। হাতিয়া থেকে নোয়াখালী সদরে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম নৌপথ। নদী উত্তাল থাকলে কিংবা বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে বিপদ বাড়ে।
একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে মরদেহ নিয়ে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দেওয়ার ভোগান্তি। এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বাসিন্দাদের। মাঝে মাঝে নদী উত্তাল থাকায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় ঘাটে। এতে অনেক সময় আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
মো. আলাউদ্দিন নামে এক মাঝি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, একবার একটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী নিয়ে যাওয়ার সময় সতর্ক সংকেতের মধ্যে উত্তাল নদী পাড়ি দিতে হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘একবার একটি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলাম। সিগন্যালের মধ্যে কিছুদূর যাওয়ার পরে উত্তাল সাগরে ঢেউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেছি। যেখানে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটে যাওয়ার কথা, সেখানে আমরা চার-পাঁচ ঘণ্টা সাগরে লড়াই করেছি।’
কেন এমন ঝুঁকি নিয়ে মরদেহ নিয়ে যেতে হয়েছিল—জানতে চাইলে আলাউদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্তে দুই-একদিন দেরি হলে আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ঝুঁকি নিয়েই নদী পাড়ি দিতে হয়েছে।
আরেকজন জানান, একবার ময়নাতদন্ত করাতে রাত হয়ে যায়। পরে হাতিয়া ফিরিয়ে নেওয়ার সময় নৌকা নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে মৃতের স্বজনরা কষ্ট করেছেন।
আরেক ভুক্তভোগী মো. নুরনবী বলেন, ‘নোয়াখালীতে লাশ কাটার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে অনেক সমস্যা হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি হাতিয়ায় যেন ময়নাতদন্তের জন্য সব ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা হয়।’
জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মানসী রানী সরকার টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের একজন ডোম ও একজন ফরেনসিক চিকিৎসক দরকার। এই দুজন নিয়োগ দিলে হাতিয়াবাসীর অনেক উপকার হবে।’


