হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাব ইরানের

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাব ইরানের
ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা বলে জানা গেছে।

রোববারের এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে রকেটের মাধ্যমে সমুদ্র মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় লারাক দ্বীপে দুটি উৎক্ষেপণযন্ত্রে হামলা চালানো হয়।

লারাক দ্বীপটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের কাছেই অবস্থিত। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর এর অবস্থান। বিশ্বে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হতো।

ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। দেশটির তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটি ড্রোন দিয়ে চালানো হয়। এতে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

হামলার পর আইআরজিসি এটিকে ‘কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।

আরও পড়ুন

আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলায় সামরিক অবকাঠামো, স্থাপনা এবং যুদ্ধবিমানের অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের অংশ হিসেবে ইরান যে মাইনগুলো স্থাপন করেছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত বা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌযান মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সেটি ধ্বংস করা হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘প্রচারমূলক প্রতারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে ইরানকে আরও বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি দেশটির মিত্রদের ওপরও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা অবশ্য এটিকে আগের মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপেরই ধারাবাহিকতা বলে দাবি করেছেন।

চলমান যুদ্ধের মধ্যে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করার পর ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। একপর্যায়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর এরই মধ্যে ছয় মাস পেরিয়েছে

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর