‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার পালন হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাতের সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।
তারা মনে করেন, শিশুর সঠিক সংখ্যা, বয়স এবং টিকাদানের আওতা সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য না থাকলে কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা দেশে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
একইভাবে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা ও মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না থাকলে রোগ মোকাবিলায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না। বর্তমানে বাংলাদেশে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে, যা আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট উত্তরণে দেশে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মূলত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন হলো সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস বা সিআরভিএস ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি। একটি শক্তিশালী সিআরভিএস ব্যবস্থা সরকারকে সব সময় সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য প্রদান করে। এর ফলে মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থায় সরকার দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক করার মাধ্যমে খুব সহজেই একটি নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য-তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা সম্ভব। এটি দেশে একটি শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


