অ্যাটর্নি জেনারেল (এজি) মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একটি অংশ।
আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা নতুন নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, নিয়োগের স্বচ্ছতা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তার মধ্যে ৩০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ৮৩ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে তারা আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছেন।
তাদের দাবি, পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং বিশেষ সুবিধার ভিত্তিতে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা রয়েছে।
সমাবেশ শেষে বিতরণ করা লিফলেটে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট, সুপ্ত, গুপ্ত ও দুর্নীতিমুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের তদন্ত এবং আইনজীবী ফোরামের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি তোলা হয়।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শরীফ ইউ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও তার পদত্যাগ দাবি করেছি। দাবি আদায়ে কর্মসূচি চলবে।’
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজলও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া অনেককে অতীতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মাঠে দেখেননি। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সমর্থক আইনজীবী রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, নিয়োগের প্রতিবাদে যারা মাঠে নেমেছেন, তারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং রাজপথের কর্মী। তার ভাষায়, দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে তা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর এবং নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরই এর সমাধান করতে হবে।
শরীফ ইউ আহমেদের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আইয়ূব আলী আশরাফী, রেজাউল করিম, শাহরিয়ার কাকন, রাশিদা আলিম ঐশী, আনোয়ারা শিখা, সারোয়ার আখম খান, অহিদুল ইসলাম অপু, আমিরুল ইসলাম শানু, সাবিনা ইয়াসমিন লিপি, রফিকুল ইসলাম মন্টু, আবদুল্লাহ আল বাকী, আশিকুজ্জামান নজরুল, এবিএম ইব্রাহীম খলিল, কোহিনুর পাপড়ি, জহিরুল ইসলাম সুমন, হাবিবুর রহমান, আনিসুর রহমান খান ও আবদুস সামাদ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের হয়ে মামলা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনা করা উচিত ছিল। এবার সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
গত ৩০ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন দুটির মাধ্যমে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করা হয়।
একই সঙ্গে নতুন করে ৮৬ জনকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জনকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এই নিয়োগের পর থেকেই নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়ে আসছে। নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশের প্রতিবাদ ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আগামীকাল সোমবারও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


