সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা ছাড়া দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার সকালে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির পক্ষ থেকে আজ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এসেছি। আজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। এই পবিত্র দিন সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদেরকে আমরা জানাই এনসিপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অতীতেও এসেছি। আমরা মনে করি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা ব্যতীত দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। সেই গণতন্ত্র কার্যকর হবে না। কারণ গণতন্ত্র সব সম্প্রদায়ের জন্য তার স্বাধীনতা, উৎসবের স্বাধীনতা, আচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।’
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অতীতে নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা অতীতে বিভিন্ন সময় দেখেছি এদেশে যারা ধর্মের দিক থেকে সংখ্যায় কম, জাতির দিক থেকে তাদের উপরে নানা ধরনের নির্যাতন নিপীড়ন হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্র বা সরকার চুপ করেছিল। কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে কখনো কখনো পরোক্ষভাবে সেগুলোকে সমর্থন জানিয়েছে। ফলে বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল।’
অভ্যুত্থানের পর বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ফলে সেই জায়গা থেকে কিন্তু আমরা অভ্যুত্থানের পরে বারবার বলে এসেছি দেশের বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদাকে নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। আমরা এখনো সেই আন্দোলনটা চালিয়ে যাচ্ছি।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী হবে- আশা জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে বলে আমরা মনে করি। যার মাধ্যমে আমাদের একটা বিচার পাওয়ার জায়গা থাকবে।’
সব রাজনৈতিক দলের দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরকারের দলে থাকি, বিরোধী দলে থাকি, সব রাজনৈতিক দলেরই এটা দায়িত্ব যেন দেশে শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য বজায় থাকে।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি এখন দেশের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এটাকে শক্তিশালী ভিত্তি দিতে হবে। ভিত্তি দিতে হলে আমাদের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।’
বাংলাদেশের বহুসংস্কৃতি ও বহু ধর্মের ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই উৎসবগুলোতে আসি, অংশগ্রহণ করি। হাজার বছরের ঐতিহ্য, এই বদ্বীপের সভ্যতা বহু সংস্কৃতি, বহু ধর্মের এই আদানপ্রদান, যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। এইটা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে।’


