সামাজিকমাধ্যমে কিশোর নির্যাতনের ভিডিও দেখে আদালতের মামলা

সামাজিকমাধ্যমে কিশোর নির্যাতনের ভিডিও দেখে আদালতের মামলা
Advertisement
Advertisement

বরগুনার বেতাগীতে কিশোরকে মারধর ও নির্যাতনের ৩৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। মামলাটি বিবিধ-১ নম্বর মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্টোনো টাইপিস্ট সুরঞ্জিত রায় বলেন, ‘Mq ReZa 2.0’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এক কিশোরকে নির্যাতন ও মারধরের ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি আদালতের নজরে এলে তা পর্যালোচনা করে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিডিওতে দেখা যায় বেতাগী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা খোকনের ছেলে রেজা রাজনৈতিক সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জেরে তার সহপাঠী রাব্বীর ছোট ভাইকে নির্মমভাবে মারধর করছেন। ভিডিওতে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত জখম দেখা যায়।

পর্যবেক্ষণে আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান আঘাতের ধরন, ভুক্তভোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে এসেছে।

আরও পড়ুন

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ বলে বিবেচিত হতে পারে বলে আদালত মনে করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(গ) ধারার ক্ষমতাবলে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে অপরাধ আমলে নেন।

আদালত ওসিকে দেওয়া নির্দেশে বলেন, অভিযুক্তদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত নয়। এছাড়া ভুক্তভোগীর আঘাতের প্রকৃতি নির্ধারণে চিকিৎসা সনদ সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের পরিচয় নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অপরিহার্য।

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভিডিওচিত্র ও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত রেজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় তিনি দাবি করেন, নির্যাতিত কিশোর বিভিন্ন সময় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতেন এবং তার বোনকেও উত্ত্যক্ত করেছিলেন। এ কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হারুনুর অর রশিদ হাওলাদার বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর