দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক এক সরাসরি বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, চলমান এই যুদ্ধবিরতি আলোচনায় দুই পক্ষই ইতোমধ্যে লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা সামনাসামনি বসে সংকট নিরসনে কাজ করছেন, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।উভয় পক্ষই নিজেদের দাবি ও শর্ত সম্বলিত লিখিত পাঠ্য বিনিময় করেছে। এই আলোচনাটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি বৈঠক: যুদ্ধবিরতি নিয়ে লিখিত প্রস্তাব বিনিময়
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই সরাসরি আলোচনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, দুই ঘণ্টা স্থায়ী হওয়া প্রথম দফার আলোচনার পর বর্তমানে নৈশভোজের বিরতি দেওয়া হয়েছে। বিরতি শেষে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরোক্ষভাবে আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে পরে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ সরাসরি আলোচনায় বসে। কূটনৈতিক মহলে সরাসরি এই কথোপকথনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈঠকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। আল জাজিরার সূত্রমতে, লেবানন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কিছু সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখন থেকে কেবল লেবাননের দক্ষিণে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং রাজধানী বৈরুতে আর কোনো হামলা হবে না–এমন একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানি সূত্রগুলো দাবি করেছে, বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পুরো বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার পরিবেশে চলায় তথ্যগুলো খুব ধীরে আসছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয়তার কারণে প্রাপ্ত তথ্যগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি আলোচনার প্রাথমিক পর্যায় হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: ‘ইতিবাচক’ পরিবেশে আলোচনা
লেবাননের নাবাতিহ প্রদেশের তিনটি শহরে আলাদা ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে। নাবাতিহ’র কফর সির শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক কর্মী রয়েছেন। এই হামলায় আরও চারজন গুরুতর আহত হন। জেফতা শহরে চালানো অন্য একটি বিমান হামলায় লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের এক সদস্যসহ তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তুল শহরে চালানো তৃতীয় আরেকটি হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সূত্র: আল জাজিরালেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১০
কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার খবর অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদনের সত্যতা নেই বলে জানিয়েছেন। শনিবার আল জাজিরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করে। এর আগে, একই দিন বার্তাসংস্থা রয়টার্স একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে ভিন্ন খবর প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কাতার ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে স্থগিত থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই তথ্যকে নাকচ করে দেওয়া হলো।ইরানের সম্পদ ছাড়ার খবর অস্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানে চলমান শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করা ইরানি প্রতিনিধিদল নিজেদের নাম দিয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’। মূলত যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরা এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই বিশেষ নামকরণ করা হয়েছে। এই নামের পেছনে লুকিয়ে আছে যুদ্ধের প্রথম দিনের এক মর্মান্তিক ঘটনা। ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ওই হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ট্র্যাজেডিকে বিশ্ববাসীর সামনে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিনিধিদলটি এই নাম বেছে নিয়েছে। গত ৪০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৮০০টির বেশি স্কুল, ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসংখ্য হাসপাতাল ধ্বংস করা হয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম সংকটে ফেলেছে। ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদলের এই অবস্থান মূলত যুদ্ধের অবসান এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর একটি জোরালো প্রচেষ্টা। ‘মিনাব ১৬৮’ নামের মাধ্যমে তারা যেমন শোক প্রকাশ করছে, তেমনি কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে ইরানের সদিচ্ছা ও গুরুত্বকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে। সূত্র: আল জাজিরাইরানি প্রতিনিধিদলের নাম কেন ‘মিনাব ১৬৮’?
লেবানন নিয়ে আলোচনার আগে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বসবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। এই সময়ে লেবাননে অব্যাহত হামলাও চালাচ্ছে তারা। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনায় আসবে না বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে নির্ধারিত বৈঠকের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে শুক্রবার রাতে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা বৈঠক করেন।লেবানন নিয়ে আলোচনার আগে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে নারাজ ইসরায়েল
শান্তি আলোচনার আগে আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তার ঠিক আগেই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠক সম্পন্ন হলো। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বাধীন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে। যদিও ওই বৈঠকের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক
শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ‘মিনাব ১৬৮’ ফ্লাইটে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গী হয়েছে ইরানে নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন। বিমানে রাখা হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানি স্কুলশিশুদের রক্তমাখা ব্যাগ, জুতা ও ছবি। ইসলামাবাদগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের প্রথম সারিতেই যুদ্ধের এসব স্মৃতিচিহ্ন স্থান পেয়েছে। ওই ছবি শেয়ার করে এক্স পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লিখেছেন, ‘ফ্লাইট মিনাব ১৬৮-তে আমার সঙ্গীরা।’ মিনাবে একটি স্কুলে ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু। যুদ্ধের প্রথম দিনেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।ইসলামাবাদে যাওয়া ‘মিনাব ১৬৮’ ফ্লাইটে ইরানে নিহতদের স্মৃতিচিহ্ন

ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত সমোনা এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। লেবাননের সশস্ত্র সংগঠনটি নিজেই এতথ্য জানিয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, ইয়ারা এলাকায় সামরিক ব্যারাকেও রকেট হামলা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি চাইলে ইরানের অধিকার মানতে হবে: গালিবাফ

পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অধিকার মেনে নিতে হবে।
ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ইরান সদিচ্ছা নিয়ে ইসলামাবাদে এসেছে, যদিও তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখে না।
গালিবাফ আরও অভিযোগ করেন, অতীতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া আলোচনায় ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি ‘গড়া না হয় ভাঙার’ আলোচনা: শাহবাজ শরিফ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই উদ্যোগকে ‘হয় শান্তি প্রতিষ্ঠা নয় ভাঙার’ আলোচনা বলে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার রাতে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের প্রতিনিধিদলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তাদের চারপাশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। এই বলয়ে ছিল আকাশে আগাম সতর্কতা প্রদানকারী এডব্লিউএসি বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান এবং ফাইটার জেট। তারা ইরানি দলকে নিরাপদে ইসলামাবাদে পৌঁছে দেয়।
ইরানি প্রতিনিধিদলের বহর বিমানবন্দর থেকে শহরের দিকে যাত্রা করার সময় পাকিস্তানের এলিট কমান্ডো ইউনিট স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ তাদের নিরাপত্তা দেয়।
শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তান সরকার দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। ইসলামাবাদে ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ।
পাকিস্তানের সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের এই কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নিতে তিনি সেখানে অবতরণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দূত উইটকফ ও কুশনার পাকিস্তানে

যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।
পাকিস্তানের সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই দুই মার্কিন প্রতিনিধি ইতোমধ্যে সেখানে অবতরণ করেছেন। চলমান উত্তেজনা কমাতে তারা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।
এর আগে খবর পাওয়া যায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল শান্তি আলোচনা শুরু করতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওই দলে উইটকফ ও কুশনারও রয়েছেন।
এই বৈঠককে চলমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করা এবং বিরোধ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমান পাকিস্তানে
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমান পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বহনকারী সরকারি বিমানটি শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছায়।
এই বৈঠককে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলমান উত্তেজনা কমানো এবং যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানকে কোনো শুল্ক আরোপ করতে দেওয়া হবে না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরানকে কোনো টোল বা শুল্ক আরোপ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আবার খুলে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পাকিস্তানে হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার আগে আগে তিনি বলেন, ‘কী ঘটছে, আমরা তা জানতে পারব। তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং এখন আমরা হরমুজ প্রণালি খুলে দেব। সবকিছু কীভাবে এগোচ্ছে, আমরা দেখব।’
ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট কমাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা ঘিরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা পুরো পাকিস্তানে। এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর (এফও) এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনার আগের শুক্রবার রাতে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সর্দার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি।
এফও জানায়, ‘উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গঠনমূলকভাবে আলোচনায় অংশ নেবে এবং তিনি সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান যে সহযোগিতা চালিয়ে যেতে চায়, সেটিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কমাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।

