ফ্যাসিবাদী আমলে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার খুলছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শ্রমবাজার চালু নিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন ব্যয় তাদের দিতে হবে না। বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি অনুমোদন দিয়েছে। আরও ৩১২টি এজেন্সিকে অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় থাকবে। ফলে মোট ৩৩৮টি বাংলাদেশি এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে।
এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিটি যাচাই-বাছাই করেছে। সরকার জানিয়েছে, এতে বাংলাদেশের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
আপাতত ১৬টি মেডিক্যাল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে পরিদর্শনের পর পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে।
কর্মীদের নিরাপত্তা, নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক চালু করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মী পাঠানোর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত কোনো আর্থিক লেনদেন, মেডিক্যাল পরীক্ষা বা পাসপোর্ট জমা না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। দালাল ও প্রতারক চক্র থেকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


