হত্যা ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের হওয়া চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি গ্রহণ করে। আগামী ৮ মার্চ এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে বছরের ১৯ অক্টোবর বিচারপতি খায়রুল হক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর চার মামলায় জামিনের বিষয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে খায়রুল হককে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়। সেই রুলের ওপরে বুধবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। জামিনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাইদ আহমেদ রাজা, তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ।
জামিনের শুনানিতে জালিয়তির মামলার বিষয়ে আইনজীবীরা বলেন, আসামির বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলার বিষয়ে রায় জালিয়তির অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মামলার রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়েছে। এ অবস্থায় রায় জালিয়তির এ মামলা চলতে পারে না।
হত্যা মামলার বিষয়ে জামিনের শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, ঘটনার সময় খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে পুলিশ প্রটেকশনে ছিলেন। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
এদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে এতসব অঘটন, নৈরাজ্য হয়েছে। স্বৈরাচার সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জালিয়তি করে এই রায় না দিলে এত মানুষের মৃত্যু হতো না।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হক গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জানা গেছে, বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা; শাহবাগ, নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও ফতুল্লা থানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ক রায় জালিয়াতি এবং রাজউকের প্লট কেনায় দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় জামিনের বিষয়ে রুল জারি হলেও, বুধবার চারটি মামলার রুলের ওপরে শুনানি হয়েছে।
শাহবাগ, নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও ফতুল্লা থানায় রায় জালিয়াতির মামলায় জামিনের আবেদনে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ক মামলার রায়ের সময় আপিল বিভাগে ৭ জন বিচারক ছিলেন। তারা সবাই মিলে এ রায় দিয়েছেন। একজন বিচারকের পক্ষে রায় দেওয়া সম্ভব না। রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিচারককে জোর করা হয়নি। ওই সব বিচারপতি এত দিনেও এ বিষয়ে আপত্তি করেননি।
হত্যা মামলায় জামিনের আবেদনে বলা হয়, যে তারিখে হত্যার ঘটনা দেখানো হয়েছে, সেদিন পর্যন্ত খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি পুলিশ প্রোটোকল ছাড়া তিনি কোথাও যাননি। পুলিশের মুভমেন্ট ডায়েরি অনুযায়ী তিনি সেদিন বাড়িতে ছিলেন।
২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। এরপর তিনবার তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হন।


