বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: সিপিডি

বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: সিপিডি
Advertisement
Advertisement

বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা। তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা জরুরি। তবে একই সঙ্গে বাজেটে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যা নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করে এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

সিপিডির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক পরিস্থিতি প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা দুর্বল। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কর আদায়ের হার ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হতে হবে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অবাস্তব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিপিডি জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই সরকারের রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়কালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ২০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যস্ফীতি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। সিপিডি জানিয়েছে, জীবনযাত্রার এই লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

সংস্থাটি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের ধীরগতি এবং ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সিপিডি। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সরকারের জন্য সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে এই গবেষণা সংস্থাটি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর