প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করার কথাও বলেন তারা। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকে বসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি দল।
এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অন্যদের মধ্যে ছিলেন মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।

বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য বলেছি। সেই সময় শেখ হাসিনা একটি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল। ভোটের অধিকার হরণ করেছিল। রাতে ভোট হয়েছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
‘শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলোকে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা যাতে করা হয়। আমরা নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হয়, সে ব্যাপারে কথা বলেছি।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার এবং আহত পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এখনো সব শহীদ পরিবার সঞ্চয়পত্র পায়নি। মাসিক ভাতা দেওয়ার কথা ছিল সে ভাতার কার্যক্রম শুরু হয়নি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সব প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা হয়, সে কথা আমরা জানিয়েছি। গণঅভ্যুত্থানে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় উনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সে দায়িত্ব সম্পূর্ণ করেই তিনি যেন সিদ্ধান্ত নেন যেকোনো বিষয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেন জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করা হয়, সেই বিষয়ে আমরা আহ্বান জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জুলাই গণহত্যার বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান। গণপরিষদ ও আইনসভা নির্বাচনের কথা বলেছি। এ তিনটি নিয়ে সমন্বিত একটি পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ যাতে সরকার একত্রে ঘোষণা করে। জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ আসতে পারে বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে জুলাই সময়ের মধ্যে যে নির্বাচন হবে সেটিরও একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি।’


