নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
আদালত প্রাঙ্গণে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জামালপুর সদরের রশিদপুর এলাকায় এক নারীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এই রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের রশিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মো. ছাত্তার আলী, কয়ড়ার পাড়া এলাকার আব্দুল মালেক এবং মো. আনোয়ার।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই ভুক্তভোগী নারী রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে ওই নারী ছোট এক সন্তান নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন।

তার একা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী ছাত্তার আলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করছিলেন। ছাত্তার এলাকায় প্রভাবশালী এবং মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত অনুমানিক ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ওই নারীর ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করে। ঘুম থেকে উঠে লোকজনের শব্দ পেয়ে তিনি দরজা খুললে চার্জার লাইট ও চাঁদের আলোতে আসামিদের দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল মালেক নিজের কোমরে থাকা গামছা দিয়ে ভুক্তভোগীর মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর আসামিরা তাকে বসতঘরের উত্তর পাশে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে নিয়ে যাযন। সেখানে আনোয়ার ও মালেকসহ অন্যরা চারদিকে ঘিরে পাহারায় থাকেন এবং ছাত্তার আলী তাকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনাটি কাউকে জানালে খুন করে মরদেহ গুম করার হুমকি দিয়ে রাত ১১টা ৫৫ মিনেটের দিকে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ আছে।

পরদিন ভুক্তভোগী ওই নারী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। তাদের পরামর্শে তিনি ২২ অক্টোবর জামালপুর থানায় ছাত্তার আলী, আব্দুল মালেক ও আনোয়ারসহ অজ্ঞাত আরও একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচার চলাকালে আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের এই সাজা দিয়েছে। এই রায়ে সন্তুষ্টি বাদীপক্ষ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad