তিন দফা বন্যা ও ভাঙা বাঁধে নিঃস্ব লস্করপুর

তিন দফা বন্যা ও ভাঙা বাঁধে নিঃস্ব লস্করপুর
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তিনবার বন্যার শিকার হয়েছে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়ন। একের পর এক প্লাবনে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।

বন্যায় কালীনগর বাঁধের অব্যাহত ভাঙনে এখন চরম সংকটে চরহামুয়া, সুঘর, নোয়াবাদ, বনগাঁও, বনদক্ষিণ, পূর্ব সুলতানশী ও আদ্যপাশাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, খোয়াই নদীর ওপর নির্মিত কালীনগর বাঁধের দুটি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় এই দুর্যোগ তৈরি হয়েছে। ঢলের পানিতে এলাকার ফসলি জমি, মাছের খামার, গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ি প্লাবিত হয়ে শতকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গত ৯ জুলাই ভারী বর্ষণ ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে প্রথমবার বাঁধ ভেঙে ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরবর্তীতে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি মেরামতের কাজ শুরু করে। কিন্তু দেড় মাসেও কাজটি শেষ না হওয়ায় গত ২৩ আগস্ট একই জায়গায় দ্বিতীয়বার বাঁধ ভেঙে যায়। মানুষ সেই ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই ২৮ আগস্ট শুক্রবার নদীর পানি বেড়ে তৃতীয়বারের মতো এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন

এই দুর্যোগের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীরা। সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, একই স্থানে বারবার বাঁধ ভাঙায় ধানের জমি ও সবজির খেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ভেঙে বন্ধের উপক্রম হয়েছে চলাচল।

চরহামুয়া গ্রামের আবদুল হক বলেন, প্রথম ভাঙনের পর মানুষ ঘরবাড়ি ঠিক করতে শুরু করেছিল। কিন্তু সংস্কার শেষ হওয়ার আগেই আবার পানি এসে সবকিছু ভাসিয়ে নেয়। সংস্কারকাজের ঢিলেঢালা গতির কারণেই তিনবার পানিবন্দী হতে হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বনদক্ষিণ গ্রামের আলতাব মিয়া। সাময়িক মেরামতের আশ্বাস না চেয়ে এখন একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান দাবি করছেন গ্রামবাসী।

তবে বাঁধ সংস্কারে ধীরগতির পেছনে প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, তারা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রতিদিনের বৃষ্টি, ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বর্ষাকালে উপযুক্ত মাটি সংগ্রহের জটিলতার কারণে মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

গত ২৫ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে লস্করপুরের দুর্যোগ কবলিত মানুষের সংকট কাটেনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর