জাপায় নতুন বিবাদের নেপথ্যে ‘চার নারী’!

জাপায় নতুন বিবাদের নেপথ্যে ‘চার নারী’!
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত আসনে এমপি কে হবেন এ নিয়ে জাতীয় পার্টিতে বিবাদের শুরু। গ্রাফিক্স: এআই/টাইমস (প্রতীকী)
Advertisement
Advertisement

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) গৃহবিবাদ নতুন করে সামনে এসেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি কে হবেন এ নিয়ে চার সিনিয়র নেতা সরাসরি বিবাদে জড়ান।

আবার সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনের স্ত্রী ও অপর দুইজনের মেয়ের নাম আসে আলোচনায়। মতবিরোধ থেকে পুরানো বিরোধ নতুন রূপ নেয়। দলের আসন্ন কাউন্সিল নিয়ে যে বিবাদ চলছে তাতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের কীর্তি ফের আলোচনায় এসেছে।

বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের অফিসে আলাপকালে একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সংখ্যা বিবেচনায় সংরক্ষিত নারী আসনে জাপার এমপি ছিলেন দুইজন। সেখানে প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার স্ত্রী সালমা হোসেন, কাজী ফিরোজ রশীদের মেয়ে শান্তা রশীদ ও এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদের মেয়ে ফারাহ বিনতে আমীনের জন্য তদবির চলে।

পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের উপদেষ্টা ও তার স্ত্রী শেরিফা কাদের, পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নূর নাহারকে সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনীত করা হয়। জিএম কাদেরের এই সিদ্ধান্তে নাখোশ হন সিনিয়র নেতারা।

দুই আসনের বিপরীতে একাধিক সিনিয়র নেতার স্ত্রী ও কন্যার নাম আসে আলোচনায়। এর মধ্যে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের সঙ্গে জিএম কাদেরের বিরোধ বাধলে ওই তিন নেতা তা উসকে দেন। এরপর রওশন-কাদের বিভক্তি নতুন রূপ পায়।

শেরিফা কাদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ (উত্তরা) আসনে লাঙল প্রতীকে লড়ে পরাজিত হন। এরপরও সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে স্থান দেওয়ায় বিগড়ে যান সিনিয়র নেতারা।

আরও পড়ুন

জাপার রওশনপন্থী অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ রোববার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, গত নির্বাচনে আমি নিজেই অংশ নিইনি। তাদেরও নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তারা শোনেননি। একটি দেশ, বিভিন্ন সংস্থা থেকে টাকা পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, আমি নিজেই যেখানে নির্বাচনে অংশ নিইনি-সেখানে আমার মেয়েকে সংরক্ষিত আসনে এমপি বানাতে চাওয়ার কথা হাস্যকর।

প্রেসিডিয়াম সদস্য এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেছেন, আমার কোনো মেয়ে রাজনীতি করেন না। তারা আমার ও আমার স্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করেন।

স্ত্রীকে এমপি বানাতে চাওয়া প্রসঙ্গে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘এটা ডাহা মিথ্যা কথা। আমার কাছ সবার আগে দল, পরিবার না। আমি পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।’

এদিকে, জাপার বনানী ও তোপখানা কার্যালয় ঘুরে জানা গেছে, আনিসুল ইাসলাম মাহদমুদ-রুহুল আমীন হাওলাদার ২৮ জুন তোপখানার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কাউন্সিল করতে চাইলে বাধা দিবে জিএম কাদের-মুজিবুল হক চুন্নু অনুসারিরা।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ বলেছে, ডিএমপির অনুমতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। জাতীয় পার্টির কাউন্সিলর করতে এখনো কেউ অনুমতি পায়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর