রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই আবারও জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়েছে মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও মিরপুর-১০ এলাকা। রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার বাসিন্দারা। কাজীপাড়ার বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, ‘বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের গলিতে হাঁটা যায় না। আমার সাত বছরের ছেলে জিনিয়াস স্কুলে পড়ে। বাসা থেকে বের হয়েই রাস্তায় পানি। ওকে নিয়ে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। রিকশার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে সকালে রিকশাও গলিতে ঢুকতে চায় না। বাজারে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, পানি একদিন নয়, অনেক সময় কয়েক দিন পর্যন্ত জমে থাকে।’
কাজীপাড়ার একটি গলিতে সবজির দোকান চালান ইরফান হাসান। সামান্য বৃষ্টিতেই তার দোকানে পানি ঢুকে পড়ে, ফলে নষ্ট হয়ে যায় অনেক সবজি। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে পানি জমে যায়। কোনো কোনো দিন পানি দোকানের ভেতরেও ঢুকে যায়। তখন হাঁটা-চলা তো দূরের কথা, দোকানেও বসা যায় না। সবজি নষ্ট হয়ে লোকসান গুনতে হয়। এগুলো কে দেখবে, কার কাছে বলব? এখন এসব মেনেই চলতে হচ্ছে।’
বৃষ্টির মৌসুম এলেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়েন বলে জানান তিনি।
বৃষ্টির পর কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এবং শেওড়াপাড়া থেকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টি হলেই কাজীপাড়া থেকে মিরপুর-১০ পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। গণপরিবহন ও রিকশার সংকটে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। তখন অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে হাঁটতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। তারা এ দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।


