চাকরির প্রলোভনে সৌদি পাঠিয়ে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১

চাকরির প্রলোভনে সৌদি পাঠিয়ে নির্যাতন, গ্রেপ্তার ১
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে নির্ধারিত কাজ না দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরিবারের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট (টিএইচবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সালমান হোসেন (৩৩)। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার শংকরপুর (গাইনপাড়া) এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচারকারী চক্রটি ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি হলে তার কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেয় চক্রটি। পরে ২০২৫ সালের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। তবে সেখানে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে কোনো চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, সালমান হোসেন চক্রের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবের একটি বাসায় আটকে রাখেন। পরে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

একপর্যায়ে কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে মরুভূমি এলাকায় চলে যান ভুক্তভোগী। সেখানে স্থানীয় এক ব্যক্তির আশ্রয় নেন তিনি। পরে সৌদি পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর চলতি বছরের ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে গত ১৪ জানুয়ারি সাভার থানায় মামলা করেন। মামলাটি মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৭ ও ৮ ধারায় করা হয়।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে সালমান হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সৌদি আরবে ভুক্তভোগী সালমানের বাসাতেই আটক ছিলেন বলেও তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্যতা মিলেছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার বা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর