গুমঘরে সারাক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা হতো, জেরায় সাক্ষী

গুমঘরে সারাক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা হতো, জেরায় সাক্ষী
Advertisement
Advertisement

গুমঘরে সারাক্ষণ চোখ বেঁধে রাখা হতো বলে জানিয়েছেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই পরিচালিত গোপন বন্দিশালায় গুমের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘প্রথম দফায় যে ৪৩ দিন আর্মি ইন্টারোগেশন সেলে বন্দী ছিলাম, তার পুরো সময় চোখ বেঁধে রাখা হতো। বাথরুমে যাওয়ার সময় চোখ খুলে দিতো। তবে হাতে হাতকড়া লাগানো থাকত। ওই সময় আমাকে মাঝে মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নে এমন তথ্য জানিয়েছেন জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষী হাসিনুর রহমান।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জেরা গ্রহণ করে। জেরা অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় শুনানি ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জেরা করেন। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ডিজিএফআইয়ের কয়টি ব্যুরো রয়েছে। জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি জানি না। সিআইবির নামও শুনিনি। আয়নাঘরে কয়টি সেল ছিল, এমন প্রশ্নে সাক্ষী বলেন, আয়নাঘরে অবস্থিত ১০টা সেল, যার একটিতে আমাকে বন্দী রাখা হয়েছিল। এগুলোকে রিমান্ড সেল বলা হতো।

আরও পড়ুন

আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী জানান, জেআইসির গোপন বন্দিশালাকে যে আয়নাঘর সাংকেতিক নামে ডাকা হয়, তা তিনি নেত্রনিউজের সাংবাদিক তাসনিম খলিলকে জানান। তার মাধ্যমে এটি প্রথম মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।

আয়নাঘরের দেয়ালে কোনো আয়না ছিল কি না, এমন প্রশ্নে হাসিনুর রহমান জানান, আয়নাঘর দেয়ালে কোনো আয়না ছিল না।

জেআইসিতে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৮ ডিসেম্বর পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়। সেদিন আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে আদালত।

জেআইসিতে গুমের ঘটনায় আসামি ১৩ জন। তারা হলেন শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, মো. আকবর হোসেন, মো. সাইফুল আবেদিন, মো. সাইফুল আলম, আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, হামিদুল হক, মখছুরুল হক, মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, কবীর আহাম্মদ, শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী। এদের মধ্যে শেষ তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর