পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কিং এডওয়ার্ড-দ্য সেভেন কাপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষক ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) নির্বাহী পরিচালক আমিনুর রহমান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা রয়্যাল লাইফ সেভিং সোসাইটি (আরএলএসএস) কমনওয়েলথ তাকে এ পুরস্কার দিয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ১৬তম ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অন ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড সেফটি প্রমোশন (সেফটি ২০২৬) সম্মেলনে আমিনুর রহমানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আরএলএসএস কমনওয়েলথের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট স্টিফেন বিয়ারম্যান।
১৯৮৬ সালের পর কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মাত্র ১৫ জন ব্যক্তি এ পুরস্কার পেয়েছেন। আমিনুর রহমান এ সম্মাননা পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি। জীবন রক্ষায় স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া এ পুরস্কার প্রথম চালু হয় ১৯০৩ সালে। পরে ১৯৮৫ সালে এটি পুনরায় চালু করা হয়।
সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমিনুর রহমান রয়্যাল লাইফ সেভিং সোসাইটি কমনওয়েলথের ‘ড্রাউনিং ডেটা অ্যান্ড ইনফরমেশন’ পোর্টফোলিওর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে জাতীয় কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশ সরকার ওই কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করে।
গবেষণাক্ষেত্রে আমিনুর রহমানের ৯০টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট অন চাইল্ড ইনজুরি প্রিভেনশন’ (২০০৮)-এর সহলেখক ছিলেন। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘ড্রাউনিং—প্রিভেনশন, রেসকিউ, ট্রিটমেন্ট’ বইটিরও তিনি সহলেখক।
এ ছাড়া ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ড্রাউনিং প্রিভেনশন’ (২০১৪)-এর অন্যতম সম্পাদক এবং ‘প্রিভেন্টিং ড্রাউনিং: অ্যান ইমপ্লিমেন্টেশন গাইড’ (২০১৭)-এর অন্যতম অবদানকারী ছিলেন তিনি।
পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগে রয়্যাল লাইফ সেভিং সোসাইটি কমনওয়েলথ থেকে ২০২৫ সালে ‘রিসার্চ অনার’ এবং ২০২৪ সালে ‘এইচআরএইচ প্রিন্স মাইকেল অব কেন্ট সার্টিফিকেট অব মেরিট’ পুরস্কারও পেয়েছেন আমিনুর রহমান।


