কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে শতাধিক নিহত, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে শতাধিক নিহত,  ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবন। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

পশ্চিম কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও শতাধিক। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষের বসবাস ওই এলাকায়।

ভূমিকম্পে ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। এর কম্পন অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬১টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত চালাতে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন, ভালে দেল কাউকা অঞ্চলে ২৭ জন, চোকোতে ৯ জন এবং কালদাসে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ক্যালিতে তিন শিশুও রয়েছে।

ক্যালিতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে স্বজনদের সন্ধানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীরাও তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবকেরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে কংক্রিট ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন। শহরটিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি ভবনের কয়েকটিতে এখনও মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার।

আরও পড়ুন

পেরেইরাতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে বিমানবন্দরের ছাদ থেকে বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা তখন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করছিলেন। শহরটির মেয়র জানিয়েছেন, অন্তত ১৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং এসব স্থাপনায় মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

মানিজালেসে একটি নিও-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি টাওয়ার ধসে মূল গির্জার অংশের ওপর পড়ে। আফটারশকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র। ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করতে মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো, বুয়েনাভেনতুরা ও পেরেইরার বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, একবিংশ শতাব্দীতে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। মূল কম্পনের পর বেশ কয়েকটি আফটারশকও অনুভূত হয়েছে।

এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে অনলাইনে বিভিন্ন ডেটাবেসে তথ্য যুক্ত করতে শুরু করেছেন স্বজনেরা। একটি ডেটাবেসে সোমবার বিকেল পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য যুক্ত হয়, যাদের বেশির ভাগই কালি ও পেরেইরার বাসিন্দা।

ভূমিকম্পের পর কলম্বিয়াকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এল সালভাদর ও মেক্সিকোও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাকর্মী, প্যারামেডিক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। চিলির প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তও কলম্বিয়ার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর