কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ও দেয়ালধসে এক নারী ও এক দিনমজুরসহ আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার পৃথক দুর্ঘটনায় কক্সবাজার শহরতলির দরিয়ানগর ও উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে এসব প্রাণহানি ঘটে। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় পাহাড়ধসে মোট ১২ জনের মৃত্যু হলো। নিহতদের মধ্যে আটজনই রোহিঙ্গা।
দুপুর ১টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা বড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ধসে বসতঘর চাপা পড়ে নাসিমা আক্তার (২৭) নামের এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নাসিমার স্বামী জসিম উদ্দিন (৪০) ও তাদের এক সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা মানেননি।’
এদিকে বিকাল ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার জামবাগান এলাকার মো. এখলাসের বাড়িতে মাটির দেয়ালচাপায় দিনমজুর মোহাম্মদ মালেক (৪০) মারা যান। তিনি পশ্চিম হলদিয়া গ্রামের ছৈয়দুর রহমানের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে জামবাগান এলাকায় থাকতেন।
হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় অতিবৃষ্টির কারণে ঘরের মাটির দেয়ালটি মালেকের ওপর ধসে পড়ে। উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অত্যন্ত দরিদ্র মালেক দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, সোমবার জেলায় ১২৯ মিলিমিটার ও মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত দুই দিনে কক্সবাজার জেলায় পাহাড়ধসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই মারা গেছেন আটজন, যাদের ছয়জনই শিশু-কিশোর। এ ছাড়া কক্সবাজার শহর, উখিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় বাকি চারজনের মৃত্যু হয়।


