বর্ষার বিদায় ঘণ্টা বাজছে, শেষ হতে চলেছে আগস্ট মাস। আমের ভরা মৌসুম পার হয়ে গেছে বেশ আগেই। তাও বাজারগুলোতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বিক্রেতাদের হাঁকডাক ‘মিষ্টি আম, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম!’
সাপ্তাহিক ছুটির দিন নিত্যপণ্য কিনতে আসা মানুষ আম দেখে থমকে দাঁড়াচ্ছে, দাম বেশি বলে সবার পক্ষে কেনা কঠিন, তবে যাদের সামর্থ্য বেশি, তারা কিনছেও।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মেরুল বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী ও মালিবাগসহ একাধিক বাজারে এই চিত্র দেখা গেছে।
কাটিমন, কল্যাণভোগ, ফজলি, ঝিনুক ও আশ্বিনাসহ নানা জাতের আমের কেজি ১২০ থেকে ২০০ টাকা। এর মধ্যে বেশি পাকা কাটিমন ১৫০-১৭০ এবং কম পাকা ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাল্টাই ফজলি ও ঝিনুক ১২০-১৩০ টাকা এবং বারি ও কল্যাণভোগ ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
কারওয়ানবাজারে আশ্বিনী আম কিনেছেন মাহদি ইসলাম; সঙ্গে ছিল তার ছোট্ট মেয়ে জুঁই।
মাহদি বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ে আম খুব পছন্দ করে। ভেবেছিলাম আগস্টের শেষে আর আম পাওয়া যাবে না। কিন্তু আজ দেখলাম আশ্বিনী পাওয়া যাচ্ছে। যেহেতু এটি লেট সিজনের জাত, তাই মেয়ের জন্যই কিনে নিলাম।’
মায়ের জন্য দুই কেজি আশ্বিনী আম কিনতে দেখা যায় রশনি খাতুনকেও।
ফল ব্যবসায়ী খালিদ ইসলাম বলেন, ‘এখন দেশি ফলের চাহিদা বেশি। আমড়া, জাম্বুরা বেশ ভালো চলছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ৫-১০ কেজি আমও বিক্রি হচ্ছে।’
অন্যান্য দেশি ফলের মধ্যে বড় থাই পেয়ারা এখন পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে, আমড়া মিলছে মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, পাকা পেঁপে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সাগর কলা, আনারস, জাম্বুরা- সব মিলিয়ে দেশি ফলের ভক্তরা এখনও রসাস্বাদনের সুযোগ পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বিদেশি ড্রাগনের বাংলাদেশ জয়ে এই ফলও চলে এসেছে নাগালের মধ্যে।
যে কারণে আপেল, মাল্টা, আঙুর, আনার এবং কমলার মতো আমদানি করা ফলের বেশি দাম নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, লেট ভ্যারাইটি জাতের আম আছে, পাশাপাশি এখন প্রযুক্তি উন্নত হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আম বাজারজাত করা হয়।
কাঁচাবাজারে শীতের আগাম সবজি
শরতে তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত জীবনে বাজারে শীতকালীন সবজি শিমের দেখা মিলছে, যদিও দাম বেশি। কারওয়ানবাজারে কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরেও ক্রেতার দেখা মিলছে। শীতের সবজি গাজরেরও দেখা মিলছে, তবে এগুলো গত মৌসুমের।
বন্যা ও বৃষ্টির কারণে ফসলহানিতে বেড়ে যাওয়া সবজির দামও কমতে শুরু করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে মরিচ ৪০০ টাকা ছুঁয়েছিল, তা এখন ১০০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে।
কাঁচা পেঁপে মিলছে ২০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায়। চিচিঙ্গা, ঝিঙা, পটল, কাঁকরোল, করলা, ঢেঁড়স, বেগুনের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।
মেরুল বাড্ডার বিক্রেতা সুমন ইসলাম ও রামপুরার মিনহাজ জানান, অতিবৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছিল, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।
মালিবাগের বিক্রেতা মুনিরের মতে, শীতের মৌসুমে সবজির দাম আরও কমবে।
অবশ্য এই দরও কষ্ট দিচ্ছে বেসরকারি চাকরিজীবী রহিমা সুলতানাকে। তিনি বলেন, ‘আদা, টমেটো, গাজরের দাম বেশি।’
আরেক ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বেগুন ১০০, করলা ৮০ টাকায় কিনলাম। আমাদের খাওয়ার মতো বাজার নাই।’
বৃষ্টি-বন্যায় বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম কমেনি। ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ডজনে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদেরকে।
সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য মতে, গত ছয় মাসের ব্যবধানে ডিমের হালিতে দাম বেড়েছে ১৪ থেকে ১৬ টাকা।
মেরুল বাড্ডা বাজারের ডিম বিক্রেতা সোহাগ মোর্শেদ বলেন, পাইকারিতে ১০০ ডিমের দাম ১ হাজার ১২০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নকিব জানান, ‘লোডশেডিংয়ে মুরগি মারা যাওয়া এবং পোল্ট্রি ফিডের চড়া দামের কারণে ডিমের দাম বেড়েছে।’
গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভরা মৌসুমে এক কেজির ইলিশের দাম কারওয়ান বাজারে ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা শুনে বেশিরভাগ ক্রেতাই সোজা হাঁটা ধরেন।
এক বছর আগেও সস্তার তেলাপিয়া বা চাষের পাঙাস কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষদের নাভিশ্বাস উঠছে। তেলাপিয়ার কেজি আড়াইশ টাকা শুনে তারা হতাশ হচ্ছেন।
পকেট ফোলা না থাকলে দেশি শিং, মাগুর দেখেই তৃপ্ত হতে হচ্ছে মানুষকে। চিংড়ির দামও ৮০০ টাকা থেকে শুরু।


