সরকার উৎখাতে ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদপন্থীর মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার রাষ্টপক্ষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সারাহ ফারজানা হক ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এদিন, আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে, রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
এর আগে, রোববার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
১৭ সেপ্টেম্বর এ মামলার প্রধান আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী (৫৫) ও তার প্রধান সহযোগী গোলাম মোস্তফা আজাদের (৪৯) পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
একই মামলায় ১৫ সেপ্টেম্বর এনায়েত করিমের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোডে সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় আদালত।
রিমান্ড আবেদনে এ মামলার প্রধান আসামি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীর সঙ্গে মিলে সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে গোপন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় কাজী মামনুর রশিদের বিরুদ্ধে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়া এলাকায় প্রাডো গাড়িতে করে সন্দেহজনক চলাচল করতে দেখা যায় আসামি এনায়েত করিম চৌধুরীকে।
এ সময় তার গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে না পারায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তার মোবাইল বিশ্লেষণ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নিজেকে ‘ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট’ হিসেবে দাবি করেন।
এমনকি তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের গোপন মিশন নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে এসেছেন বলেও স্বীকার করেছেন।


