হাদি হত্যা মামলা: এবার তদন্তভার পেল সিআইডি

হাদি হত্যা মামলা: এবার তদন্তভার পেল সিআইডি
ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্ত করে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত আদেশ দেয়।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মামলাটির তদন্তে ছিল ডিবি। তবে সেই তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে এদিন নারাজি দেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিকালে মামলাটির তদন্ত ভার সিআইডিকে দেওয়া হয়।

নারাজির আবেদন দাখিলের শুনানিতে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, এই চার্জশিট তদন্ত কর্মকর্তা কেবলমাত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল জন্য দিয়েছেন। এখানে মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে হত্যাকারী শুটারদের কী সম্পর্ক তা উল্লেখ করা হয়নি।

হাদি কোনো সাধারণ মানুষ ছিলেন না। তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল। জন্য তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। যেন কেউ আর হাদির মতো ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে আওয়ামী লীগের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলের কথা বলা হয়েছে। এটা হাস্যকর, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহস করার কথা না। অবশ্যই বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল। জন্য চার্জশিটের ওপর আমরা নারাজি দিয়েছি।’

আরও পড়ুন

এর আগে গত জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর গত ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে হাজির হয়ে পুলিশের দেওয়া চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নেন। আদালত ওইদিন চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন।

চার্জশিট অনুযায়ী, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ। এছাড়াও রয়েছেফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। তারা পলাতক।

বাকি ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছে। তারা হলোফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্টকার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক মো. ফয়সাল।

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।

ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদি মারা গেলে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর