সেতুর বেহাল দশায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটে ভোগান্তি

সেতুর বেহাল দশায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটে ভোগান্তি
বারৈচা-খামারের চর সেতু। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা অংশের বারৈচা-খামারের চর সেতুর বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এ সড়কের যাত্রী ও যানবাহন চালকেরা। সেতুর উপরিভাগের পিচ ও কংক্রিট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পাশাপাশি কোনো যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে বিকল্প সড়ক না থাকায় মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

যাত্রী ও পরিবহন চালকরা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারৈচা-খামারের চর সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ হাজারও যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে তদারকি ও স্থায়ী সংস্কারের অভাবে সেতুটির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙা রাস্তা ও গর্তের কারণে যানবাহনগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে সেতু পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকদের অভিযোগ, সেতুর খানাখন্দের কারণে কোনো গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে পুরো মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে শত শত যাত্রীকে ঘন্টার পর ঘন্টা তীব্র যানজটে আটকে থাকতে হয়। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় অসুস্থ রোগী ও জরুরি কাজে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি বাড়ছে। রাতের আঁধারে গর্তগুলো ঠিকমতো দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

ভ্যান চালক মোঃ শফিকুল মিয়া জানান, সেতুটি ভাঙার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। সবজি নিয়ে বাজারে যেতে প্রচুর সময় লাগে। মহাসড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

ট্রাক চালক চন্দন মিয়া বলেন, ‘আমরা ভারী মাল নিয়ে চলি। এই ব্রিজের খানাখন্দে চাকা পড়লে গাড়ি আর টেনে তোলা যায় না। মাঝেমধ্যে এক্সেল ভেঙে গাড়ি রাস্তার ওপরেই আটকে থাকে। তখন পেছনে জ্যাম লেগে যায়। এক ঘণ্টার পথ পার হতে চার-পাঁচ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন

বাসচালক সোহাগ মিয়া বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রোডে বারৈচা অংশে গাড়ি চালানো এখন আতঙ্কের নাম। বারৈচা-খামারের চর সংযোগ সেতুতে গেলেই ভয় লাগে। ব্রিজের ওপর এমন বড় বড় গর্ত যে গাড়ি সাবধানে না চালালে স্প্রিংয়ের পাত ভেঙে যায় বা টায়ার ফেটে যায়। গাড়ি বিকল হয়ে ভৈরব থেকে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

প্রতিনিয়ত এই যানজটের প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষকদের ওপরও। হোসেন নগর গ্রামের কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘প্রায়ই সকালে খামারের চর মোড়ে যানজট লেগে থাকে। আমরা সবজি নিয়ে সঠিক সময়ে বাজারে যেতে পারি না।’

মুফতি তরিকুল ইসলাম গোলাপ বলেন, ‘গতকাল রাতে আমি ওয়াজ মাহফিল শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত তিনটা বাজে দেখি রাস্তায় জ্যাম। শুধু যে ব্রিজে খানাখন্দ তা না, ড্রাইভাররাও এই জ্যাম সৃষ্টির পেছনে দায়ী।’

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘দুই দিন আগেও একটি ট্রাক ফেঁসে গিয়েছিল এই ব্রিজে। আমিসহ আমার ফোর্স সারারাত চেষ্টা করে যান চলাচল স্বাভাবিক করি। পরদিন ব্রিজের কিছু খানাখন্দ সমান করা হয়, আমরা সেখানে ছিলাম। তবে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিকল্প একটি ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।’

স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সেতুটির স্থায়ী সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা ও যানজট এড়াতে বিকল্প সেতু নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা ই রাব্বি বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য বিটুমিনের কাজটা করতে পারিনি, প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ওভারলে করে দেব। আমি সেতুটি দেখে এসেছি। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর