ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুইজন। এ ছাড়া বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভবনটি থেকে এ পর্যন্ত ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে দিল্লি পুলিশ দুইজনকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে এবং কতজন আটকে আছেন সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য জরুরি পরিষেবা সংস্থা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭৫ শয্যার একটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ধসে পড়ে। ভবনটির মালিক গুরুগ্রামে থাকেন। সত্য নিকেতন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত এবং এখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বসবাস করে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন ধসের সময় ভেতরে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিন ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজেদের রুমে ছিলেন।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে দুর্ঘটনাস্থলে থাকা এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আকুতি ও কান্নার শব্দ শুনেছেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ধসে পড়া ভবনটি ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পুরুষদের একটি পিজি হোস্টেল ছিল।
ঘটনাটির প্রাথমিক চিত্রে দেখা গেছে, ধসে পড়া স্থানে মানুষ জড়ো হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালাচ্ছেন। উদ্ধারকারী দল ও যন্ত্রপাতি পৌঁছানোর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চালান।
সামাজিক যোগাযোগমাধমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে আটকে আছেন এবং কয়েকজন মিলে তা সরানোর চেষ্টা করছেন।
দুর্ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১২টি গাড়ি পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে একটি এক্সকাভেটর মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভারী স্ল্যাব ও গার্ডার সরাতে আরও যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীও (ডিডিএমএ) যুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ভিড় সামলাতে দাঙ্গাবিরোধী পুলিশ ডাকা হয়েছে।
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানান, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের ভবনটি খালি করা হয়েছে। আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধার করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে সম্ভাব্য সব চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
দিল্লির উপরাজ্যপাল তারানজিত সিং সান্ধু জানান, দ্রুত উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সত্য নিকেতনে ভবন ধসের খবর শুনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং ডিডিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবার নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অসহায় প্রতিটি মানুষের কাছে সম্ভাব্য সব সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মা প্রথম দুইজনকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভেতর থেকে কিছু শিক্ষার্থী ফোনও করছেন। ভেতরে আরও অনেকে আটকে আছেন বলে মনে হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি।’
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এই দুর্ঘটনার পেছনে দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘সত্য নিকেতনে আবারও ভবন ধসের ঘটনা ঘটল। এটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পিজি হোস্টেল ছিল। আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’


