দেশের বিচার বিভাগের জন্য পৃথক, স্বাধীন সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের শুনানি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে, ৯ জুন বিচার বিভাগের জন্য সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক, স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য ১৬ জুন দিন ধার্য করে আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।
এর আগে, ২১ মে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়।
গত ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়।
হাইকোর্টের রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলা বিধি বাতিল করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, এর মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ থেকে পুরোপুরি পৃথক হলো বিচার বিভাগ।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে, বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে সাতজন আইনজীবী রিট দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে।


