সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ সারাদেশের বার নির্বাচনে অনিয়ম ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এদিন দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি।
সমাবেশে আইনজীবী এসএমএ সবুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জগলুল হায়দার আফ্রিক, জহিরুল হক, জাহিদুল বারী, হুমায়ুন কবির, আনোয়ারুল হক। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে কেউ দলীয়ভাবে কিংবা দলীয় পরিচয়ে অংশগ্রহণ করেন না বরং ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তারপরও অনেক প্রার্থীকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।
এই ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের গায়ের জোরে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সবাইকে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতেও আহ্বান জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে এসএমএ সবুর বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করে নতুন তফসিল ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন আয়োজনের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হোক।’
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল টাইমসকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, সেই সংগঠনের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত কারও এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই, এটা সমিতির বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত। এই প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ করে দেওয়ার দাবি তুলে নিষিদ্ধ সংগঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা, আমার জানা নেই।’
তবে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নামে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে, সেখানে আওয়ামী লীগের অনেক চিহ্নিত নেতাকে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলের সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে সম্প্রতি সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। আগামী ১৩ ও ১৪ মে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।


