সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ১০৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশে বাদীর নারাজি

সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ১০৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশে বাদীর নারাজি
Advertisement
Advertisement

মানবপাচারের অভিযোগে করা মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ (এমপি) প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

জনশক্তি রপ্তানির আড়ালে পাচারের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় করা এ মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, সাবেক সিনিয়র সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এবং কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে।

তারা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে আলোচিত। এই সিন্ডিকেটের কারণেই জনশক্তি রপ্তানির বড় এই বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে মানবপাচারের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও মামলার ৫১ জন আসামির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম মামলাটি তদন্ত করেছে।

শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির দুটি অংশ বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাজার খোলার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেও বাজার সবার জন্য উন্মুক্ত হবে কি না–তা নিয়ে রিক্রুটিং লাইসেন্স মালিকদের মধ্যে এখনো সংশয় কাটেনি।

আরও পড়ুন

পল্টন থানায় করা এই মামলায় গত ২২ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএমপির এসআই মো. রায়হানুর রহমান আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তিনি জানান, মামলায় অভিযোগের দুটি অংশ ছিল–যার মধ্যে মানবপাচারের সত্যতা মেলেনি। তবে প্রতারণার অংশে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল।

২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাফ খান বাদী হয়ে পল্টন থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদ, সাবেক সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, বেনজীর আহমেদ, মো. নিজাম উদ্দিন হাজারী, মো. রুহুল আমীন স্বপন, মোহাম্মদ নূর আলী, নাফিসা কামাল, কাশমিরি কামাল, শাহাদাত হোসেন তসলিম, গোলাম মোস্তফা এবং শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার বাদী আলতাফ খান অভিযোগ করেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ না করে আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলায় এক আসামি ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা মূলত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের সবাইকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

এ কারণে আগামী ৭ জুলাই আদালতে এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad