শিক্ষার্থীর কল্যাণ নিশ্চিত করা শিক্ষকের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী।
সোমবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে চার মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মঙ্গল দেখেন না, তিনি ভালো শিক্ষক হতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের বিপদে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে, বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে এবং তাদের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা রাখতে হবে।’
শিক্ষকতা কেবল চাকরি নয়, বরং জীবনব্যাপী সাধনা উল্লেখ করে অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, নিরবচ্ছিন্ন পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে শিক্ষককে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হিট প্রকল্পের আওতায় এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি ইউজিসি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
নতুন জ্ঞান অর্জন ও তা ছড়িয়ে দিতে তিনি শিক্ষকদের বাংলা ভাষার পাশাপাশি আবশ্যিকভাবে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মাছুমা হাবিব এবং বাউবির উপউপাচার্য অধ্যাপক আনিসুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে মামুন আহমেদ বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের আলাদা প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি জানান, হিট প্রকল্পের আওতায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক লায়লা নূর ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান এবং প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জহির রায়হান বক্তব্য দেন।
এ সময় বাউবির উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামসহ ইউজিসি, বাউবি ও হিট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
চার মাসব্যাপী এ পেশাগত উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণে ৩৩টি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ জন প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক অংশ নেন।


