মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকুর রহিমের সর্বোচ্চ ৭ টেস্ট জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। তবে শান্তর এই অর্জনটির পেছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। যেখানে মুশফিকের এই মাইলফলক ছুঁতে লেগেছিল ৩৪ ম্যাচ, সেখানে শান্ত মাত্র ১৭ ম্যাচেই সেই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। কাকতালীয়ভাবে, শান্ত যখন এই রেকর্ড স্পর্শ করেন, মুশফিকুর রহিম তখন সতীর্থ হিসেবে মাঠেই উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে নিউজিল্যান্ডকে ১৫০ রানে হারিয়ে অধিনায়ক হিসেবে শান্তর জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর থেকেই বাংলাদেশ টেস্ট ফরম্যাটে দারুণ সাফল্যের দেখা পায়।
২০২৪ সালের আগস্ট ও নভেম্বরে পাকিস্তানের মাটিতে তাদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ‘হোয়াইটওয়াশ’ জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জয় এবং নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয় শান্তর দল।
সর্বশেষ মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারানো বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন ইতিহাস যোগ করল। কারণ, এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়।
অধিনায়ক হিসেবে জয়ের তালিকায় শান্ত ও মুশফিকের পরেই রয়েছেন সাকিব আল হাসান, যিনি ১৯ ম্যাচে ৪টি জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া মুমিনুল হক ১৭ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন।
এই ম্যাচে শান্তর সামনে ব্যক্তিগত এক বিরল রেকর্ডের সুযোগও ছিল। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান–সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং এবং ডেভিড ওয়ার্নার–তিনটি আলাদা ম্যাচে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন।
শান্ত এর আগে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই কৃতিত্ব একবার করে দেখিয়েছেন। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি সেই রেকর্ডের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন। তবে দলের হয়ে দ্রুত রান তোলার তাগিদে আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৮৭ রানে নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
মাত্র ১৩ রানের জন্য কিংবদন্তিদের সেই সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাম লেখাতে না পারলেও, অধিনায়ক হিসেবে শান্তর এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


