কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় পৃথক অভিযানে প্রায় ১৬ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১২ হাজার কেজি এবং কৃষি বিভাগের অভিযানে ৩ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি বোটসহ ১০ পাচারকারীকে আটক করা হয়।
শনিবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শুক্রবার দিনগত রাত ১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ড চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক একটি বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে আভিযানিক দল ধাওয়া করে গভীর সমুদ্র থেকে বোটটি আটক করতে সক্ষম হয়।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা জানান, বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২৪০ বস্তা বা ১২ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তা বা ৩ হাজার ৮০০ কেজি রসুন এবং ৯০ বস্তা বা ৪ হাজার ৫০০ কেজি পেঁয়াজ জব্দ করা হয়। এ সময় বোটে থাকা এক রোহিঙ্গাসহ মোট ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পৃথক দুই স্থান থেকে ৭৭ বস্তা বা ৩ হাজার ৮৫০ কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করেছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। শুক্রবার রাতে পশ্চিম পালংখালীর চিতাখোলা ও পালংখালী স্টেশন এলাকায় এসব সার জব্দ করা হয়।
উখিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকাবাসীর সহযোগিতায় রাত ১১টার দিকে পশ্চিম পালংখালীর চিতাখোলা এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় মিয়ানমারে পাচারের জন্য মজুত করে রাখা ৭৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।
উখিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামনাশীষ সরকার বলেন, ‘স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ সার পাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে সার কিনে এনে পালংখালীর আনজুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচার করে আসছে। শুক্রবার রাতে চিতাখোলা এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত করা ৭৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।’
এর আগে পালংখালী স্টেশন এলাকায় মিয়ানমারে পাচারের সময় আরও দুই বস্তা সার জব্দ করেন স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘প্রত্যয়’-এর কর্মীরা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আশেক ইলাহী রুবেলের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। এ সময় এক পাচারকারীকে আটক করা হলেও পরে গণপিটুনির মধ্যে কৌশলে পালিয়ে যায় সে।
স্থানীয়দের দাবি, পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই ব্যক্তি স্বীকার করে যে, গয়ালমারা গ্রামের সোনা মিয়ার গুদাম থেকে সার সংগ্রহ করে মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তরুণ সমাজকর্মী আশেক ইলাহী রুবেল বলেন, ‘এলাকার কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। অথচ প্রায় রাতেই আনজুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সারের চালান পাচার হচ্ছে। গত দুই মাসে স্থানীয় বাসিন্দারা দফায় দফায় কয়েক শ বস্তা সার আটক করেছেন।’
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ‘স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় কৃষি বিভাগ ৭৭ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে। জব্দ করা সার শনিবার সকালে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং মিয়ানমারে সার পাচারকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।’
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


