‘ভুল’ জিম্মির মরদেহ ফেরত দিল হামাস, যুদ্ধে প্রস্তুত ইসরায়েল

‘ভুল’ জিম্মির মরদেহ ফেরত দিল হামাস, যুদ্ধে প্রস্তুত ইসরায়েল
ইসরায়েলে জিম্মিদের মরদেহ ফিরিয়ে দেয় রেড ক্রস। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

গাজায় জিম্মি আরও দুই ইসরায়েলির মরদেহ হস্তান্তর করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। স্থানীয় সময় বুধবার আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই মরদেহ দুটি ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়। বিনিময়ে ইসরায়েল থেকে আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ গাজায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ওই জিম্মিদের মরদেহ ফেরত দিয়েছে হামাস। সংগঠনটির সশস্ত্র শাখার (কাসেম ব্রিগেড) দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তারা যেসব জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে তাদের সবাইকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখনও যেসব জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি, সেগুলোর সন্ধানে আরও সময় ও উদ্ধার কাজে বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেনি দাবি করে তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের দুই বছর পর নিহত জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারের কাজটি অত্যন্ত কঠিন হলেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।

রেড ক্রসের কাছে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মরদেহ ফিরিয়ে দেয় ইসরায়েল। ছবি: এপি/ইউএনবি

এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী হামাসের কাছে থেকে সবশেষ দুই জিম্মির মরদেহ ফিরে পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। তবে এর আগে মঙ্গলবার ফেরত পাওয়া চার মরদেহের তিনজন হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলি নাগরিক বলে নিশ্চিত হলেও অপরজন ভিন্ন কোনো ব্যক্তি বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। অর্থাৎ যে মরদেহের পরিচয় মেলেনি, তা কোনো জিম্মির মরদেহ নয়।

জিম্মি পরিবার ফোরামের শনাক্তকৃত অন্য তিন জিম্মি হলেন – ২০ বছর বয়সী তামির নিমরোদি, ৫৩ বছর বয়সী এয়েতান লেভি এবং ৩৫ বছর বয়সী উরিয়েল বারুখ।

আরও পড়ুন

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসয়ায়েল কাৎজ হামাসকে দেওয়া হুঁশিয়ারি বার্তায় বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২৮ জিম্মির মরদেহ ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে কোনো আপসে যাবে না। হামাস চুক্তি ভঙ্গ করলে তাদের পরাজিত করতে পূর্ণাঙ্গ সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক হুঁশিয়ারি বার্তায় বলেছেন, হামাস যদি চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করে, তাহলে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ফের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।

অবশ্য মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা বলছেন, তাদের দৃষ্টিতে এখনও পর্যন্ত হামাস চুক্তি লঙ্ঘন করেনি। হামাস ইতোমধ্যে জীবিত ২০ জন জিম্মিকে ফেরত দিয়েছে এবং বাকিদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। যদি বুধবার ফেরত দেওয়া দুইটি মরদেহ সত্যিই ইসরায়েলি জিম্মিদের হয়, তাহলে এখনও গাজায় আরও ১৯ জন জিম্মি নিখোঁজ রয়েছেন। তবে হামাস আগেই সতর্ক করেছে, গাজা থেকে জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে বেশি সময় প্রয়োজন।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর