বিএনপির মধ্যে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
নেতাকর্মীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হতাশা নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী হয়ে দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করতে হবে।’
মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম জাকির হোসেন নান্নুর দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান এবং শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে, কারও শ্রম বা আত্মদান কখনো বৃথা যায় না।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো (যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল) এই বিপ্লবেরই সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ন্যায়ের শূন্যতা একদিন নানা অর্জন দিয়ে পূর্ণ হবে।’
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে তিনি জানান, সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে এবং কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছর পর এসবের সুফল যখন মানুষের হাতে পৌঁছাবে, তখন জাকির হোসেন নান্নুর মতো মানুষদের আত্মদান সার্থক হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর বাড়িঘর ও আত্মীয়স্বজন ছাড়া প্রবাসে নানা নিপীড়ন সহ্য করে দলের চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে একটি ‘বড় ও অনন্য ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের তার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানান রিজভী। বিগত প্রহসনের ‘আমি এবং ডামি’ নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া হতাশা কাটিয়ে এই বিজয়কে এক বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
বক্তব্যে ৪৫ বছর পর প্রয়াত জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এই মেজর মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর কোথায় ছিলেন? আন্তর্জাতিক বা দেশের ভেতরে কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছে?’
একইসঙ্গে কাদের সিদ্দিকীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সেসময় তিনি অন্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, তা আজ আলোচনার সময় এসেছে।
একইভাবে সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিম, আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কারা আশ্রয় দিয়েছে, সে বিষয়েও জবাব চাওয়ার দাবি জানান রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


