বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা। বহলার বিলের পানিতে ছুটছে একের পর এক নৌকা। বৈঠার ছন্দে বাড়ছে নৌকার গতি। তীরে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস-হর্ষধ্বনি। কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন নৌকাবাইচের দৃশ্য, কেউ করতালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন প্রতিযোগীদের। ঢোল কাঁসরের শব্দ, বৈঠার ছন্দ আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে জমে উঠেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বহলবাড়িয়া বিল।
চিত্রটা বদলে যায় হঠাৎই। দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের শেষ দিনে প্রতিযোগিতা চলাকালে এক নৌকার মাঝিরা অন্য নৌকায় উঠে পড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত নৌকাবাইচ স্থগিত করে আয়োজক কমিটি।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নন্দলালপুর ইউনিয়নের বারেক মোড় এলাকার বহলবাড়িয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে।
আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতালি প্রবাসীদের উদ্যোগে রোববার থেকে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এতে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী।
সোমবার বিকালে প্রতিযোগিতা শুরু হলে বিলের পানিতে একের পর এক রঙ-বেরঙের ডিঙি নৌকা ছুটে চলতে থাকে। মাঝিদের বৈঠার ছন্দে পানিতে সৃষ্টি হয় ঢেউ, আর তীরে থাকা দর্শকদের মুহুর্মুহু উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
তবে প্রতিযোগিতা চলাকালে কয়েকটি নৌকার মাঝি অন্য নৌকায় উঠে পড়েন। এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটলে প্রতিযোগীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে বিলের পাড়ে জড়ো হওয়া দর্শকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আয়োজক কমিটির সদস্যরা নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা স্থগিত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে আবার এই নৌকা বাইচটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এদিকে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের জন্য একটি করে খাসি ছাগল পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল।
নৌকা বাইচকে ঘিরে বহলবাড়িয়া বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলাও। মেলায় দেশীয় খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। ফলে নৌকাবাইচ দেখতে আসা মানুষের পাশাপাশি মেলাতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার আগেই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়।
আয়োজক ইতালি প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন বলেন, মাদক থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখা এবং গ্রামের মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয় কিন্তু অনিবার্য কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নাই। আমি জেনে জানাতে পারব।’


