প্রতি বছর ভাষার মাসের শুরু থেকেই অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে ঢাকায় শুরু হয় মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ বছর সেটি হয়নি। এমনকি কবে নাগাদ বইমেলা শুরু হবে তাও এতদিন স্পষ্ট ছিল না।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এ বছর অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি।
বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরি সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মাসব্যাপী এই বইমেলা আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্যের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু বাস্তবতার কারণে অন্যান্য বছরের মতো এ বছর বইমেলা পহেলা ফেব্রুয়ারি শুরু করা সম্ভব হয়নি। ২০ ফেব্রুয়ারি এবারের বইমেলা শুরু হবে।’
প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় স্টলভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এরই মধ্যে বইমেলা সংক্রান্ত সব আয়োজন শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্টল নির্মাণ কাজ চলছে। বইমেলার আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
গত বছর যেসব প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে তাদের মধ্য থেকে ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং নতুন ৫৩টি প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দের আবেদন করেছে জানিয়ে সেলিম রেজা বলেন, ‘স্থান সংকুলানের বাস্তবতায় গত বছরের ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান ও নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বইমেলার কাজ যখন ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে, তখন কিছু প্রকাশক ঈদের পর মেলা আয়োজনের জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থাকে। ধুলোবালির উপদ্রব বাড়ে। কালবৈশাখীসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকে প্রবল, তাই এসময় মাসব্যাপী মেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। তাই প্রকাশকদের অনুরোধ কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বইমেলা যেন তারা অংশগ্রহণ করেন।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘যেহেতু এই মেলা রমজান মাসজুড়ে হবে, তাই মেলা প্রাঙ্গণে তারাবীর নামাজ পড়ার ব্যবস্থা, ইফতার করার জন্য ফুড স্টলগুলো সাজানো হয়েছে। এছাড়া, মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির ব্যবস্থা থাকবে। প্রকাশকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এসব ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছি।’


